রবিবার রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, যে টেবিলে বসে পড়াশোনা করতেন তিনি, সেখানে এখনও সাজানো রয়েছে তার বই-খাতা। পাশে রাখা হয়েছে রাকিবের ছবি। পড়াশোনায় কৃতিত্বের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া পুরস্কার ও সম্মাননাও যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা। এসব স্মৃতিই এখন তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।
রাকিবের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ব্যারিস্টার হওয়ার। দেশের সেবা করা এবং মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করার। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে সেই স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতি নিতেই ঢাকায় গিয়েছিলেন তিনি। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী রাকিব স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছিলেন।
রাকিবের বাবা খাদেমুল ইসলাম বললেন, ‘আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি দাবি করছি।’
রাকিবের চাচা রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘রাকিব আজ বেঁচে থাকলে আমাদের মিষ্টি খাওয়াতো। ভাতিজার জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার পরিবর্তে কুলখানির আয়োজন করেছি। এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি, যেন তারা আমার ভাতিজার জন্য দোয়া করে। আমি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আর আমার ভাই একসঙ্গে ঘুমাতাম, লেখাপড়া করতাম। তার অনেক স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে ব্যারিস্টার হবে। আজ ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও মিষ্টি খাওয়ানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। তাই এতিম শিশুদের খাবারের আয়োজন করেছি, যেন তারা তার জন্য দোয়া করে।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাকিবের হত্যার ঘটনায় মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশ। তারা সরকারের কাছে দ্রুত তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর এআই প্রযুক্তির সাহায্যে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। এরপর তার মুক্তির কথা বলে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।