ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশশ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পোশাক কারখানা বন্ধ বা শ্রমিকদের বেকার হতে দেওয়া হবে না; শিগগিরই বসছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক : শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না।

সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা দেশে অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষকদের সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সড়ক-মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও অবরোধ সৃষ্টি করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। প্রকৃত শ্রমিক ও তাঁদের সংগঠনের নেতারা কখনোই নিজেদের কর্মসংস্থান ধ্বংস বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত চিহ্নিত ইন্ধনদাতা এবং কয়েকজন শিল্পমালিককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অডিও-ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শিগগিরই বসছে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর এ বোর্ড গঠন করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর রাতে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর ১ নভেম্বর সকালে শ্রম মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শিগগিরই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিল্প, বিনিয়োগ ও শ্রমিকবান্ধব। দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণ এবং তাঁদের রুটি-রুজির স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

কোনো শিল্পকারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না থাকে এবং কোনো শ্রমিক যেন বেকার হয়ে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর সোমবার বিকেলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular