নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে (আইএআইও) বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘আইএআইও গ্রুমিং ক্যাম্প’ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) আয়োজনে ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহযোগিতায় ২ ও ৩ নভেম্বর এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৩১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে (আইআইটি) অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বে অংশ নেয় ৪৬ জন প্রতিযোগী। লিখিত গাণিতিক পরীক্ষা ও ‘কাগল’ প্ল্যাটফর্মে মেশিন লার্নিং প্রতিযোগিতার ফলের ভিত্তিতে তাদের মধ্য থেকে ২০ জনকে এই কর্মশালার জন্য বাছাই করা হয়।
কর্মশালার প্রথম দিন শুরু হয় ডেটা সায়েন্সের মৌলিক বিষয় ও সুপারভাইজড লার্নিং দিয়ে। শিক্ষার্থীরা ডেটা বিশ্লেষণ, ফিচার ইঞ্জিনিয়ারিং, রিগ্রেশন, ডিসিশন ট্রি ও সাপোর্ট ভেক্টর মেশিনের মতো পদ্ধতি হাতে-কলমে অনুশীলন করে। এরপর আনসুপারভাইজড লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক ও ডিপ লার্নিংয়ের মূল ধারণা নিয়ে সেশন হয়, যেখানে অ্যাটেনশন মেকানিজম ও ট্রান্সফরমারের মতো আধুনিক বিষয়ও ছিল। দিন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দিনে মডেল মূল্যায়ন, কম্পিউটার ভিশন, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) ও অডিও প্রসেসিং নিয়ে সেশন হয়। ছবি শনাক্তকরণ ও বস্তু চিহ্নিত করার পাশাপাশি জেনারেটিভ মডেল, ডিফিউশন মডেল এবং ভাষা ও কণ্ঠস্বর বোঝার আধুনিক এআই মডেলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সব ব্যবহারিক কাজ হয় পাইটর্চ ফ্রেমওয়ার্কে।
কর্মশালার সেশনগুলো পরিচালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকেরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রবিউল আলম, সহযোগী অধ্যাপক ও সিভিস রিসার্চ ল্যাবের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. তানজিম রেজা ও মো. সাইফুল বারী সিদ্দিকী। আরও ছিলেন প্রভাষক পোলক নাগ, নাফিজ ইমতিয়াজ রাফিন, মো. খালিদুজ্জামান খান সম্রাট, সানজিদা তাসনিম ও আসিফ হাসান চৌধুরী এবং গবেষণা সহকারী মো. ফাহমিদ-উল-আলম জুবরাজ।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জুবায়ের বলেন, “এই অলিম্পিয়াড আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ। এর মাধ্যমে আমরা স্কুল পর্যায় থেকেই এআই নিয়ে জানতে ও কাজ করতে পারি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে মিলে এআই নিয়ে গবেষণা করারও সুযোগ রয়েছে।”
যশোর থেকে আসা শিক্ষার্থী রাফিয়া আনজুম বলেন, “চার বছর ধরে প্রোগ্রামিং শিখছি। কিন্তু এই অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার পর এখানকার পরিবেশ আর শিক্ষকদের কাছ থেকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি। মেন্টরদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আগে বুঝতাম না কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে হয় বা কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়। আমি চাই আরও বেশি শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়েরা, এই অলিম্পিয়াডে অংশ নিক। ঢাকার বাইরে যারা আছে, তারাও যেন এআই শিখে এই অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়।”
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)
৩ নভেম্বর বিকেলে সেমিনার ও সমাপনী পর্বের মধ্য দিয়ে কর্মশালা শেষ হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, সিএসই বিভাগের চেয়ারপারসন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সাদিয়া হামিদ কাজী, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াড দলের কোচ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম খান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ড. সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, “তোমরা নিজেদের উদ্যোগে শিখে সমস্যার সমাধান করতে চাইছ, এজন্য ধন্যবাদ। তবে মনে রাখতে হবে, থেমে গেলে হবে না, এটা ধারাবাহিকভাবে করতে হবে। আমাদের এখন দক্ষতার ঘাটতি আছে। পরের প্রজন্ম হিসেবে তোমরা না পারলে আমাদের কোনো লাভ হবে না। তাই দক্ষতা বাড়াতে থাকো, আর দেশের সমস্যার সমাধানের কথা ভাবো।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, “এত মানুষের শ্রম আর সবার সহযোগিতা নিয়ে তোমরা যদি নিজেদের দক্ষতা আরও শাণিত করতে পারো, তাহলে ভালো কিছু হবে বলে প্রত্যাশা করি। আমার পক্ষ থেকে সবার জন্য শুভকামনা।”



