ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধআদম ব্যবসার নামে মাসুদা'র প্রতারণা ও নির্যাতন বেড়েই চলেছে

আদম ব্যবসার নামে মাসুদা’র প্রতারণা ও নির্যাতন বেড়েই চলেছে

নিউজ ডেস্ক: আদম ব্যবসায়ী মাসুদা বেগম গং এর অত্যাচার, নির্যাতন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। সেইসাথে বাড়ছে সর্বত্র তার প্রভাব ও প্র্রতিপত্তি।

প্রশাসনের নাকের ডগায় মাসুদা বেগমের বাড়িতে ‘উমায়ের ট্রেড ইন্টারন্য্যাশনাল’ এর একটি রিক্রুটিং লাইসেন্সবিহীন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই আদম ব্যবসার নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত কয়েকশত মানুষ তার প্রতারণার শিকারে পরিণত হয়েছে।

প্র্রচার করা হয়, মাসুদা বেগমের নামে আনীত অভিযোগ থানা নিতে চায় না, তার লোভের শিকার হয়েছেন যারা তারাও মাসুদা বেগমের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়ার সাহস পান না। অভিযোগ দায়ের করা হলেও গালিগালাজ, হুমকী ধামকী ও কিছু অপকৌশল প্রয়োগ করে আদালত পর্যন্ত যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়, থানায় দাখিলকৃত অভিযোগসমুহ মাসুদা বেগমের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে মীমাংসা করিয়ে নেওয়া হয়। মাসুদা বেগমের জন্য এসব সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। কেউ তার কিচছু করতে পারবে না, তাকে ছুঁতেও পারবেনা এমন কথা সে ও তার সহযোগীরা সবসময় প্রচার করেই চলছে আর নানা অপকর্ম করেই চলছে।

মাসুদ খাঁন

সম্প্রতি এমন একটি নাটকীয় আপোস মিমাংসার ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায়। গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল মাসুদা বেগমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় মিমাংসা পত্রে মাসুদা বেগমের বিরুদ্ধে আনা তিনজনের অভিযোগকে ‘ঝগড়া’ বা ‘ঝামেলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং উক্ত বিষয়ে আর কোনো মামলা ও মোকাদ্দমা না করার জন্য  অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগনামা প্রত্যাহার করানো এবং আর অভিযোগ না করার অঙ্গিকার করিয়ে নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মো: জহুর আলী এবং গত মার্চ মাসে কোহিনুর কর্তৃক দায়েরকৃত দুইটি পৃথক মামলায় মাসুদা বেগম এবং গংএর বিরুদ্ধে সৌদি আরবে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে নানা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, চাকুরী না দেওয়া, চাকুরী দিয়ে আবার কদিন পরেই চাকুরী থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া, সৌদি আরবে গৃহবন্দী করে পিটিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়, কর্মহীন অবস্থায় খেতে পরতে না দেওয়া, অসহায় আদমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা এই ধরনের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

প্র্রসঙ্গত আরো উল্লেখ করা যায়, শুধু এই তিনজনই নয় আরো অনেকেরই একই ধরনের অভিযোগ আছে এই প্রভাবশালী মাসুদা বেগমের বিরুদ্ধে।

এই চক্রান্তের শিকার যারা তাদের মধ্যে অভি, বাপ্পি, আকাশ, মিরাজ, হাসিব অভিযোগ করেছেন যে, তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ বা সাড়ে ৫ লক্ষ বা তারচেয়ে বেশি টাকা নিয়ে বৈধ ভিসায় রেস্টুরেন্টে কাজ দেওয়ার কথা বলে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়েছিল।

যাওয়ার পর তাদের চাকরী হয়না। মাসুদা বেগমের ছেলে মাসুদ তাদের বাসায় আটকে রেখে মারপিট করে আরো টাকা দাবি করে। না দিলে জানে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেবার হুমকীও দেয়া হয়। এইভাবে মুক্তিপণ দাবি করতেই থাকে।

তাদের এই লোভের শিকারে পরিণত হয়ে জহুর আলী তার নাতি আকাশের জন্য মাসুদা বেগমের কাছে গিয়েছিলেন মাসুদ খানের এই অযৌক্তিক দাবির বিষয়ে ফয়সালা করতে। মাসুদা বেগম তাকে বিবস্ত্র করে এবং নিজেও বিবস্ত্র হয়ে তার সহযোগিদের দিয়ে কিছু নোংরা ছবি তোলে। এই ছবি দিয়ে প্রৌঢ় জহুর আলীকে কোনরকম অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে তার বিরুদ্ধেই মামলা করা হবে বলে শাসায়। তার নাতির বিষয়ে কিছু জানে না বলে তাকে নানারকম গালিগালাজ ও হুমকী ধামকী দিয়ে বের করে দেয়। বিষয়টি তার পরিবার ও প্রতিবেশি জানলে থানায় জহুর আলী একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

কোহিনুর তার মেয়ের জামাই মো: হাসিবকে বৈধ কাজের কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে সৌদি আরবে নিয়ে যায়। সৌদি আরবে মাসুদ খান তার বাসায় মো: হাসিবকে আটকে রেখে মাসুদ, পনির এবং রাজিব তিনজন মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং আরও টাকার দাবি জানায়। মুক্তিপণ হিসেবে ৪ লক্ষ টাকাও আদায় করে। তারপর তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার হুমকীও দিতে থাকে। তখন গোপনে অন্য এক দালালের সহযোগিতায় পরিবার থেকে দেড় লক্ষ টাকার খরচ করে, মাসুদ খানের কাছ থেকে পালিয়ে মো: হাসিবকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
অর্থাৎ এভাবেই চাকরী দেওয়ার নাম করে মানুষকে প্রতারণা করে আসছে।

আদম ব্যবসায়ী মাসুদা বেগম, তার ছেলে মাসুদ খান এবং তাদের সহযোগীদের নামে এই ধরনের অভিযোগের অডিও এবং ভিডিও প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে।

এবিষয়ে কথা বলার উদ্দেশ্যে আমাদের প্রতিনিধি মাসুদা বেগমের সাখথ যোগাযোগ করলে মাসুদা বেগম তাকে বলেন তিনি বৈধভাবে লোকজনকে সৌদি আরব নিয়ে যান। মাসুদা বেগম আমাদের প্রতিনিধিকে তার এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখার পরামর্শ দেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular