ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধপঞ্চাশ বছর আগের ট্রেন ভ্রমণের ফাঁকির টাকা রেলকে পরিশোধ

পঞ্চাশ বছর আগের ট্রেন ভ্রমণের ফাঁকির টাকা রেলকে পরিশোধ

গাজীপুর প্রতিবেদক: শেষ বয়সে এসে গাজীপুরের শ্রীপুরের মো. মফিজুল ইসলাম (৬০) এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন।

প্রায় ৫০ বছর আগে কিশোর বয়সে রেলের টিকিট না কেটে ভ্রমণের সেই ঋণ এখন পরিশোধ করলেন তিনি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলেন ২০ হাজার টাকা।

মফিজুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার চন্নাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বেপারির ছেলে।

‘১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের দিকে, তখন তিনি জীবিকার তাগিদে কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। শ্রীপুর থেকে ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় কাঁঠাল নিয়ে যেতেন তিনি। সে সময় ট্রেনের ছাদে যাতায়াতের জন্য অন্য যাত্রীদের মতো টিকিট কাটতেন না তিনি। পরিবর্তে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের হাতে ১–২ টাকা দিতেন। এভাবেই নিয়মিত যাতায়াত করায় রেলওয়ের কোষাগারে জমা হতো না কোনো অর্থ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর মফিজুল ইসলাম অনুভব করেন, সেই সময় দেওয়া টাকা রেলওয়ের পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

‘সে সময় ২-৩ বছর টিকিট ছাড়া চলেছি, আর পুলিশের হাতে টাকা দিয়েছি ঠিকই। কিন্তু রেলওয়ে তো আমার কাছে টাকা পায়। অনেক দিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা পরিশোধ করা দরকার। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম।’

রেলওয়ে সূত্র জানায়, এই দায়বদ্ধতা থেকেই শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টারকে অনুরোধ করেন তাকে ২০ হাজার টাকার টিকিট দেওয়ার জন্য। তবে একসঙ্গে এত টাকার টিকিট স্টকে না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পর মফিজুল ইসলাম আবারও স্টেশনে যান। অবশেষে গত ২৮ মার্চ রেলওয়ের বিশেষ রশিদের (মানি রিসিট) মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দায়মুক্ত হন।

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়েতে এভাবে পুরনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগতির মাধ্যমে ভাড়ার সমান টিকিট বিক্রি করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মফিজুল সাহেব এসে বিষয়টি খুলে বলার পর আমরা তার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি। মানুষের সব সময় একরকম বোধোদয় থাকে না। জীবনের এক পর্যায়ে যখন তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন, তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এটি সত্যিই একটি চমৎকার মানসিকতার দৃষ্টান্ত।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular