সুমন দত্ত: দেশের কর্পোরেট কোম্পানির গুলোর লবণ আমদানি বন্ধ করে স্বদেশী লবণ ব্যবসায়ী ও চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কক্সবাজার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানান তারা। এসময় লবণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি জামিল ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খোকনসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশিয় লবণ শিল্পের সঙ্গে ৬৫ হাজার চাষি জড়িত। কক্সবাজারের ৬০ পারসেন্ট মানুষ লবণ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে। চলতি মৌসুমে লবণ মিল মালিকরা বস্তা প্রতি ৬৪০ টাকায় নামিয়ে এনেছে। এক বস্তায় ৮০ কেজি লবণ থাকে। এতে এক কেজি লবণের দাম পড়েছে ৮ টাকা। অথচ এই বস্তা ছিল ১৪০০ টাকা। তখন প্রতি কেজি লবণের দাম পড়ত ১৭.৫০ পয়সা। লবণের এই দরপতন চাষি মেনে নিতে পারছে না। চাষিদের মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি লবণ উৎপাদন করতে খরচ প্রায় ১৫ টাকা। এদিকে প্রান্তিক কৃষকরা লবণ বিক্রি করছে ৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে। যা খুব বেদনাদায়ক।
বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি কোম্পানি আছে। যারা মিল মালিক হিসেবে পরিচিত। এরা হচ্ছে মোল্লা, এসিআই,ফ্রেশ, সিটিগ্রুপ, প্রাণ, এস এ, কনফিডেন্স। এরা প্যাকটজাত লবণ বিক্রি করে। যার প্রতি কেজি দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এরা বাহির থেকে লবণ আমদানি করে। সেই লবণ উচ্চ মূল্যে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে বিদেশি গোষ্ঠীকে লাভবান করে। সরকারের এক শ্রেণির লোকজন তাদের কে এলসি খুলতে সহায়তা করে। যার ফলে দেশী ব্যবসায়ীরা লবণ উৎপাদন করে ন্যায্য দাম পায় না। এর একটি সিন্ডিকেট তেরি করে রেখেছে। এদের কারণে দেশি লবণ শিল্প ধ্বংসের মুখে। এদেরকে লবণ আমদানি থেকে ঠেকানো গেলে দেশের লবণ শিল্প সমৃদ্ধ হতো এবং লবণ চাষিরা ন্যায্য দাম পেত।
দেশি লবণ চাষিদের বাচাতে অবিলম্বের লবণ আমদানিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। এবং দেশের লবণ চাষিদের কাছ থেকে লবণ কেনা বাধ্যতামূলক করে বাকী চাহিদা আমদানির জন্য দেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে এসব হচ্ছে না। দেশের মানুষের চাহিদা কত সেই হিসাব লবণ সংশ্লিষ্টরা দিচ্ছে না। যার ফলে কর্পোরেট কোম্পানি গুলো নিজেদের ইচ্ছা মত লবণ আমদানি করছে। এতে মার খাচ্ছে দেশের লবণ ব্যবসায়ীরা।



