নিউজ ডেস্ক: আসছে পবিত্র মাহে রমজান। মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব। এ দিবসটি মুসলিম বিশ্বে মাস জুড়ে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। সারাদিন রোযা শেষে খোশ আমেজে ইফতারের সময় একেকদেশে একেকে রকম ঐতিহ্যবাহি ভোজন বিলাসি খাবার খাওয়ার প্রচলন আছে। সেইসব খাবার দিয়ে রোজা ভাঙেন রোযাদাররা। তবে বাংলাদেশে সাধারণত খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা হয়। এরপর আসে ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি ও মুড়িমাখা। আমাদের ইফতার আয়োজনে লেবুর শরবত ও বিভিন্ন ফলের শরবতও অন্যতম উপাদান। তবে পৃথিবীর অন্য মুসলিম দেশে ইফতারে কী খাওয়া হয়? তা নিয়ে আজকের আয়োজন-
সৌদি আরব-সাধারণত “গাহওয়া” নামক অ্যারাবিক কফি ও খেজুর দিয়ে শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর তারা ভারী খাবার গ্রহণ করেন। জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে আসিদাহ, মারগগ, মাফরৌক ও মাতাজিজ, যা বাদামি আটা, গরুর মাংস, সবজি, মধু, পেঁয়াজ ও ঘি দিয়ে তৈরি হয়।
তুরস্ক-আয়োজনে দোলমা অন্যতম একটি পদ। ‘দোলমা’ শব্দের অর্থ ‘ভরা’ বা ‘স্টাফড’। এই খাবারে আঙুরপাতা, বেলপেপার বা ক্যাপসিকামের ভেতরে চাল, মসলা ও কিমা করা মাংস ভরে রান্না করা হয়। সাধারণত এটি ঠান্ডা অবস্থায় অ্যাপেটাইজার হিসেবে পরিবেশন করা হয়, তবে দইয়ের সঙ্গে প্রধান খাবার হিসেবেও খাওয়া যায়। ইফতারে হালকা ও সুস্বাদু কিছু খেতে চাইলে দোলমা বেশ জনপ্রিয়।
মিসরের কাতায়েফ-এই বিশেষ মিষ্টান্ন থাকবেই। মিষ্টিপ্রেমীদের মন জয় করে নেওয়ার মতো একটা খাবারই বটে। দেখতে অনেকটা প্যানকেকের মতো, তবে বিশেষ মিশ্রণ দিয়ে তৈরি। এর মধ্যে পুর হিসেবে মিষ্টি চিজ বা বাদাম ভরে ভাজা হয়, যতক্ষণ না সোনালি ও মচমচে হয়ে ওঠে। এরপর এর ওপর সিরা ও চিনি ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। কাতায়েফের বিশেষত্ব হলো এর অনন্য টেক্সচার। মচমচে ও নরমও। কাতায়েফ হয় দুই ধরনের—ভাজা কাতায়েফ, বাইরে মচমচে ও ভেতরে নরম। বেক করা কাতায়েফ, যা কেকের মতো ও স্পঞ্জি। কাতায়েফের উৎপত্তি মিসরে হলেও বর্তমানে এটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জনপ্রিয় এক খাবার।
মরক্কোর-ঐতিহ্যবাহী ইফতারি হারিরা। এটা মূলত একধরনের সুস্বাদু স্যুপ। সাধারণত খেজুর ও মিষ্টি পেস্ট্রির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। একে বাংলাদেশের হালিমের সঙ্গে তুলনা করা চলে। হারিরা তৈরি হয় মসুর ডাল, ছোলা, টমেটো, পেঁয়াজ, আদা, হলুদ, দারুচিনি ও বিভিন্ন সুগন্ধি মসলা দিয়ে। ধীরে ধীরে রান্নার কারণে এটি ঘন ও সুস্বাদু হয়। শেষে ময়দা ও ডিমের কুসুম দিয়ে করা হয় আরও ঘন। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এই স্যুপ শরীরে শক্তি জোগায়, স্বস্তি দেয়।
ইন্দোনেশিয়া- পশ্চিম জাভার বিখ্যাত খাবার মি গ্লোসর, যা ইফতারেও বেশ জনপ্রিয়। এটি মূলত একধরনের নুডলস। ‘মি গ্লোসর’ শব্দের অর্থ ‘স্লাইড’ বা ‘পিছলে পড়া’। মসৃণ ও নরম টেক্সচারের কারণে এমন নামকরণ। এই বিশেষ নুডলস তৈরি হয় কাসাভা ময়দা ও হলুদ দিয়ে। স্বাদ ও রঙে গমের নুডলসের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পাকিস্তানের হালিম-ইফতারে জনপ্রিয় পদ হালিম। এর রেসিপি আমাদের হালিমের মতোই—মসুর ডাল, গম ও মাংস (গরু, খাসি বা মুরগি) মূল উপকরণ। স্বাদ বাড়াতে দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গসহ বিভিন্ন সুগন্ধি মসলা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরে ধীরে রান্না করা হয়। পরিবেশন করা হয় মূলত নান বা রুটি দিয়ে। ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বেরেস্তা, লেবু ও ধনেপাতা, যা খাবারটাকে করে তোলে আরও সুস্বাদু।
ইরান-ইফতারে রুটি, স্যুপ, কাবাব ছাড়াও জাফরানের সুগন্ধিযুক্ত পার্শিয়ান হালুয়া ও “শোলেহ জার্দ” নামক জাফরান চালের পুডিং বেশ জনপ্রিয়। সেইসঙ্গে তাবরেজি চিজ, জুলবিয়া (জিলাপি) ও বামিয়েহ নামের মিষ্টান্নও ইফতারে থাকে।
ইন্দোনেশিয়া-পশ্চিম জাভার জনপ্রিয় খাবার মি গ্লোসর, যা ইফতারিতে প্রচলিত। এটি একধরনের নুডলস, যার নামের অর্থ ‘স্লাইড’ বা ‘পিছলে পড়া’। মসৃণ ও নরম টেক্সচারের কারণে এমন নামকরণ। এই বিশেষ নুডলস কাসাভা ময়দা ও হলুদ দিয়ে তৈরি হয়, যা স্বাদ ও রঙে গমের নুডলসের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
নাইজেরিয়া- ইফতারে সাধারণত শর্করাজাতীয় খাবার ও ফলমূল প্রাধান্য পায়। ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে রয়েছে জল্লফ রাইস, মই মই (এক ধরনের পুডিং), ইয়াম (আলুর মতো খাবার), মাসা (রাইস কেক), ইলুবো এবং আমালা (ইয়াম দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার)।
মালয়েশিয়া-নাসি লেমাক হলো মালয় রন্ধনপ্রণালীতে উৎপত্তিপ্রাপ্ত একটি খাবার যা নারকেলের দুধ এবং পান্ডান পাতায় রান্না করা সুগন্ধি ভাত দিয়ে তৈরি। এছাড়া মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয় ইফতার আইটেমের মধ্যে রয়েছে রেন্ডাং, গোরেঙ্গান এবং বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় ফলের শরবত।
আফগানিস্তান- ইফতারে রুটির সঙ্গে শোরবা, কাবাব, সামোসা, ফল এবং নানা রকমের দুধ-মিশ্রিত পানীয় খাওয়া হয়।



