ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখোলা কলামএকটি স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশনের প্রয়োজন

একটি স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশনের প্রয়োজন

প্রিন্সিপাল নুরে আলম তালুকদার
 
শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক পরিবর্তন এবং নৈতিক উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত, সে দেশ তত উন্নত। শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, জাতীয় উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।
 
বাংলাদেশে শিক্ষা
বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মান, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রমাণ করে শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয় নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত।
 
কমিশন গঠন জরুরি
শিক্ষার মানের অবনতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোচিং নির্ভরতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, দক্ষতার অভাব—এসব সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর জন্য একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী শিক্ষা কমিশন গঠন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের জন্য একটি জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন অত্যন্ত জরুরি।
 
‘‘স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশন’’
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও যুগোপযোগী ‘‘স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশন’’ গঠন করা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
এজন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি স্বাধীন শিক্ষা কমিশন প্রয়োজন যার কাঠামো গঠিত হবে শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, প্রযুক্তিবিদ, শিল্প উদ্যোক্তা, শিক্ষা উদ্যোক্তা, সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষা প্রশাসক প্রমুখদের সমন্বয়ে।
 
কমিশনের কাজ
এই কমিশন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা সংস্কার পরিকল্পনা তৈরি করবে। একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের সাথে তাল রেখে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও দক্ষতায়  এগিয়ে নিতে যদি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনই পরিবর্তন করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবে। এখানে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক অপরাধ বাড়বে ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেমে যাবে। অতএব, যত দ্রুত সম্ভব একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে এসকল সমস্যার সমাধান ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
নবগঠিত শিক্ষা কমিশনের কাজ হবে—
শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা বিশ্লেষণ
দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা উন্নয়পরিকল্পনা তৈরি
পাঠ্যক্রম সংস্কার
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়
গবেষণা উন্নয়ন
শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ
 
শিক্ষা সংস্কারের নীতিমালা
আমার গবেষণালব্ধ জ্ঞান থেকে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে গঠিত শিক্ষা কমিশনের যেসকল কাজ করতে হবে –
১. দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষাক্রম চালু
২.পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ (আইটি শিক্ষা, গবেষণা শিক্ষা, সমস্যা সমাধান শিক্ষা) 
৩.কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ
৪. উন্নত শিক্ষক প্রশিক্ষণ
৫. শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি
৬.বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি 
৭. একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধন।
 
বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
১. শিক্ষা সংস্কার আইন প্রণয়ন
২. নতুন পাঠ্যক্রম চালু
৩. শিক্ষক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক
৪. কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ
৫. গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি
৬. শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত
৭. শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি
 
উপসংহার
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটের মধ্যে রয়েছে। শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, কিন্তু শিক্ষার মান উন্নত হয়নি। শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না, গবেষণা কার্যক্রম সীমিত—এই পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নের জন্য একটি বড় বাধা।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং বিশেষজ্ঞ ভিত্তিক ‘‘স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন’’ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি কার্যকর শিক্ষা কমিশনই পারে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে। একটি কার্যকর শিক্ষা কমিশনই পারে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে এবং একটি দক্ষ, শিক্ষিত, নৈতিক ও উন্নত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে।
 
রেফারেন্স 
১. UNESCO – Global Education Report
২. UNICEF – Bangladesh Education Report
৩. World Bank – Education Sector Review
৪. Bangladesh Bureau of Statistics – Labour Force Survey
৫. BANBEIS – Education Statistics Report
 
 লেখকঃ- প্রাবন্ধিক 
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular