নিউজ ডেস্ক: নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার আগে টার্মিনালটির আয়, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার তুলনামূলক হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনা করলে সম্ভাব্য আয় কত হতে পারে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে এর সক্ষমতা কতটা বাড়ানো সম্ভব এসব বিষয় জনগণের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এ দাবিতে সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়লে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক টার্মিনাল। ফলে ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের কাছে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বনাম কনসেশন দুই ব্যবস্থার আর্থিক ও পরিচালনাগত সুবিধা-অসুবিধার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রকাশ করতে হবে।’
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ শ্রমিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, ‘বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এনসিটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল। এটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানসহ রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।’
তাদের অভিযোগ, ‘দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনসম্মুখে পর্যাপ্ত আলোচনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় এনসিটি পরিচালনার বিকল্প মডেল এবং সম্ভাব্য আর্থিক ফলাফল প্রকাশ না করে চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।’
এর আগে বন্দর রক্ষা কমিটি এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানায়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিও জানানো হয়।



