ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখোলা কলামক্ষমতা ও জনগণের সেবা: একটি মৌলিক প্রশ্ন

ক্ষমতা ও জনগণের সেবা: একটি মৌলিক প্রশ্ন

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী
 

ক্ষমতা কি জনগণের সেবা, নাকি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগের লাইসেন্স? এই প্রশ্নটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী ও এমপিদের সুযোগ-সুবিধা, রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যবহার এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের গভীর সংকটের প্রতিফলন ঘটায়।

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, সরকার পরিবর্তিত হয়, কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে: ক্ষমতা কি সত্যিই জনগণের সেবা করার সাংবিধানিক দায়িত্ব? সম্প্রতি মন্ত্রী ও এমপিদের বেতন ও ভাতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা রাজনৈতিক নৈতিকতা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যবহার নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

জনপ্রতিনিধিদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অঙ্গীকারের সময় সাধারণ মানুষ আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর যখন উন্নতমানের সরকারি গাড়ির দাবি ওঠে, তখন প্রশ্ন জাগে—রাজনৈতিক অঙ্গীকার কি কেবল নির্বাচনের আগে সীমাবদ্ধ থাকবে?

বেতন ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নের পাশাপাশি, জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সুবিধার মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যবহার জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত বিলাসিতার জন্য নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনেকের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদি একজন জনপ্রতিনিধির সম্পদের পরিমাণ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রশ্ন করা উচিত—এই সম্পদের উৎস কী?

ক্ষমতার পালাবদলের পর ‘থলের বিড়াল’ বের হওয়া বন্ধ করতে হবে। সরকারের পরিবর্তনের পর নতুন সরকার পুরোনো সরকারের নেতাদের সম্পদের পাহাড় আবিষ্কার করবে—এটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা হতে পারে না।

জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা জানতে চায়—রাষ্ট্রের টাকা কোথায় যাচ্ছে? কে কত সুবিধা পাচ্ছেন? কেন পাচ্ছেন?

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে—জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত যাচাই করা, সন্দেহজনক সম্পদ বৃদ্ধির তদন্ত করা এবং অপরাধের প্রমাণ থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

অবশেষে, ক্ষমতা সাময়িক, জনগণের রাষ্ট্র স্থায়ী। রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন জনগণ বিশ্বাস করবে—রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের; ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular