খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নাসরিন নাহার (৩০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে দুইজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হয়েছেন।
হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত নাসরিন নাহার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে। গত রোববার তিনি খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জন্মগত ডায়াবেটিসের কারণে রোববার নাসরিন নাহার খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। বুধবার সকাল ৬টার দিকে হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। এ সময় আগুনের কালো ধোয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও তাদের স্বজদের মধ্যে। আগুনের আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামার সময় মাক্স খুলে গেলে অক্সিজেনের অভাবে নাসরিনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. দিলিপ কুমার কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন, নাসরিন নাহারসহ ওটি বিভাগের ১৫ টা সিটেই রোগী ছিল। আমরা সবাইকে নিরাপদে নিতে পেরেছি। কিন্তু ওই রোগীর স্বজনরা নিজেরাই তাকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো, রোগীকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খুমেক হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুইজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, ঠিক কি কারণে আগুন লেগেছে এখনো জানা যায়নি। তবে আগুনের কারণে হাসপাতালে অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যাহত হওয়ায় এই মুহূর্তে সকল ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।




