ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়গুতেরেস ও ড. ইউনূসের সঙ্গে লাখো রোহিঙ্গার ইফতার

গুতেরেস ও ড. ইউনূসের সঙ্গে লাখো রোহিঙ্গার ইফতার

নিউজ ডেস্ক : কক্সবাজারের উখিয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফর ঘিরে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস। এরই মধ্যে প্রস্তুত লাখো রোহিঙ্গাকে নিয়ে ইফতার করার স্থান। মেরামত করা হয়েছে রাস্তা-ঘাট আর নতুন করে সেজেছে পরিদর্শনের স্থানগুলো।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের উখিয়ার বর্ধিত ক্যাম্প ২০; চারপাশ অনেকটায় পাহাড় বেষ্টিত। এখানেই শুক্রবার (১৪ মার্চ) লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করবেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে হেলিপ্যাডের কাছে একটি সেন্টারে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও নারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাই পুরো এলাকায় চলছে প্রস্তুতি। এরই মধ্যে জোন ভাগ করে রোহিঙ্গাদের বসার জন্য বিছানো হয়েছে ত্রিপল। তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।

উখিয়ার ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ জোহার বলেন, ‘ড. ইউনূস সাহেব আমাদের দেখতে আসবে এটা শুনেই খুশি লাগছে। জাতিসংঘের প্রধান আসবেন সেটাও আমাদের জন্য অত্যন্ত খুশির। এই কারণে আমরা সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেছি। অপেক্ষা করছি কখন তারা আসবেন। তাদের ক্যাম্পে আসাটা আমাদের জন্য খুশির সংবাদ।’

শুধু বর্ধিত ক্যাম্প ২০ নয়; জাতিসংঘের মহাসচিব পরিদর্শন করবেন ১৮ নম্বর ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গা সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সেবা এবং ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র। তাই এসব স্থানের যাতায়াতের রাস্তাগুলো করা হয়েছে মেরামত, বসানো হয়েছে নতুন ইট। একই সঙ্গে নতুন করে সেজেছে পরিদর্শনের স্থানগুলো। আর জাতিসংঘের মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আশ্রয়শিবিরে আগমনকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গারা।

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমি প্রথম ড. ইউনূসকে দেখতে পাব। আমার খুব ইচ্ছা আমাদের দুঃখ দুর্দশার কথা, ক্যাম্পে আমাদের সুবিধা অসুবিধার কথা তাকে জানাব। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি তিনি কখন আসবেন।’

আশ্রয়শিবিরে কার্যক্রমগুলোর তত্ত্বাবধান করছে সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে রয়েছে পুলিশ, এপিবিএন, জেলা প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন। আর জাতিসংঘের মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টার আগমনে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা বলয় থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শুক্রবার (১৪ মার্চ) জাতিসংঘের মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজার আসছেন। আশ্রয়শিবিরে যে কার্যক্রমগুলো হবে তা তত্ত্বাবধান করছে সেনাবাহিনী। পুলিশ কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ক্যাম্প পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখছে। কয়েক স্তরের বলয় থাকবে। এসএসএফ কক্সবাজার চলে এসেছে, তারা সব বিষয় সমন্বয় করছে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। প্রধান উপদেষ্টার কক্সবাজার শহর কেন্দ্রিক কিছু ভেন্যু রয়েছে, এসব ভেন্যুতেও কয়েক স্তরের নিরাপত্তার বলয় থাকছে।’

তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে, যার মধ্যে এক লাখ ৯০ হাজার মিয়ানমারে ফিরে যায়। এরপর ১৯৯১ সালে দুই লাখ ৫০ হাজার ৮৭৭ জন অনুপ্রবেশ করে, যার মধ্যে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন মিয়ানমারে ফিরে যায়। ২০১২ থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। তারপর ২০১৭ সালে আট লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। আর ২০২৪ সালে ৬৪ হাজার ৭১৮ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। কিন্তু দীর্ঘ ৮ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular