রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টানা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গাছ ও বাঁশের গুঁড়ি ফেলে রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় যানজটে আটকা পড়েন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাছিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। অনেক এলাকায় দিনে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ঈদুল আজহার দিনও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ফ্রিজে সংরক্ষিত কোরবানির মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গাছ ও বাঁশের গুঁড়ি ফেলে রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চাঁদপুরগামী পথে সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার গাড়িবহরও ওই যানজটে আটকা পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা প্রশাসন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “লক্ষ্মীপুরের মধ্যে রায়পুর উপজেলায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। ঈদের দিনও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।”
সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপককে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে নাগরিক সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোশারফ হোসেন বলেন, গত মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, তার ছিঁড়ে গেছে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়েছে এবং লাইনের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, “রাত ৮টার দিকে পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হলেও পুরো উপজেলায় স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে আরও সময় লেগেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।”
টানা বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষুব্ধ রায়পুরবাসী দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও সরঞ্জাম মেরামতের কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
ঢাকানিউজ/নাজ/24




