নিউজ ডেস্ক: এক বছরে কক্সবাজারের নাফ নদী এবং টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৭৩ লাখ পিস ইয়াবা জব্দের পাশাপাশি ২৩৮ জন পাচারকারীকে আটক করেছে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার এক রাতের ব্যবধানে পৃথক দুটি অভিযানে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় আটক করা হয়েছে চার মাদক কারবারিকে।
মঙ্গলবার দুপুরে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এ সময় ক্যাপ্টেন মাহরাফ জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে একটি ডাবল কেবিন পিকআপ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামগামী পিকআপটিতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবাগুলো উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা। এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. সাইফুল ইসলামকে (৩১) আটক করা হয়। জব্দ করা হয় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও একটি মুঠোফোন।
একই রাতে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তবর্তী উলুবুনিয়া মাঝের কাঠি এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল। এ সময় মিয়ানমার থেকে পোঁটলা হাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা তিনজনকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার কাটাখাল এলাকার রাসেল (২৩) ও শাকিল (২২) এবং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকের বাসিন্দা খাইরুল আমিন (২৪)। পরে তাদের বহন করা পোঁটলা তল্লাশি করে ৩৪ কার্টনে থাকা ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পৃথক দুটি অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত এক বছরে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অভিযানে ১ কোটি ৭৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ২৩৮ জন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারিরা বড় সিন্ডিকেট কিংবা অভিনব কৌশল ব্যবহার করলেও বিজিবি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।



