কক্সবাজার প্রতিবেদক: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
তবে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। খাল ও পানি চলাচলের পথগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা হলে পানি আরও সহজে নেমে যাবে। এতে জলাবদ্ধতা কমে মানুষের দুর্ভোগও কমবে।
গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ১৮ আগস্ট রাত থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। তবে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে অনেক এলাকায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে।
জানা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রংগীখালী, ওয়াব্রাং, পূর্ব ফুলেল ডেইল, ছৈয়দ নুর পাড়া, জালিয়া পাড়া ও গোদামপাড়া পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া সাবরাং ইউনিয়নের ছান্দলী পাড়া, আলীর ডেইল, নয়াপাড়া, পূর্ব জিনাপাড়া, লাপার গুনার পূর্ব পাশ ও মগ পাড়াতেও পানি জমেছে।
অন্যদিকে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী ও জাহালিয়া পাড়া এবং টেকনাফ পৌরসভার জালিয়া পাড়া, কলেজ পাড়া ও ডেইল পাড়া নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি চলাচলের রাস্তা ও খালগুলো ঠিকভাবে সংস্কার করা হলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমবে। পানি চলাচলের রাস্তা আরও প্রশস্ত করা এবং খালগুলো পরিষ্কার ও সংস্কার করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, রাত থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে যায়। বৃষ্টি কমার পর পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। পানি চলাচলের রাস্তাগুলো আগের চেয়ে প্রশস্ত করা এবং খালগুলো সংস্কার করা হলে নিচু এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবেন।
সাবরাং চান্দলীপাড়ার বাসিন্দারা বলেন, রাতে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গ্রামের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি চলাচলের কিছু পথ স্থানীয় কয়েকজন বন্ধ করে রেখেছেন। এসব পথ স্বাভাবিক করে দিলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, জলাবদ্ধতা কমাতে দ্রুত পানি চলাচলের রাস্তা ও খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত কক্সবাজারে মোট ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী জানান, রাত থেকে টেকনাফে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি উঠেছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে পানি আবার নেমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’




