বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন পুলিশ কর্মকর্তা, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
সাকিব হোসেইন, তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামে জমি ও চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এ সময় সংঘর্ষে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, কোনো অপরাধী পার পাবে না। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিতাস ও পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি ও চরসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৬ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে টেটাবিদ্ধ হয়ে কুহিনুর আক্তার নামের এক নারী নিহত হন। আহত হন অন্তত ৪০ জন। সংঘর্ষের সময় ৭০ থেকে ৮০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত কুহিনুর আক্তারের স্বামী বাদী হয়ে ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করে মেঘনা থানায় হত্যা মামলা করেন। অন্যদিকে, তিতাসের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে কুমিল্লার আদালতে ৮০ জনকে আসামি করে পৃথক মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।



