আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নৌসেনাদের জন্য পাতায়ায় আগমন একটি বিশেষ মুহূর্ত। ২৫০ দিনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে তারা যখন থাইল্যান্ডের রিসোর্ট শহরে পা রাখলেন, তখন তাদের মুখে ছিল মুক্তির আনন্দ।

এই সফরের প্রথম দিনেই তারা শপিংমলে কেনাকাটা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সৈকতের কাছে অবস্থিত ‘হাল্ড রক হোটেল’-এ অবস্থানকালে, তাদের হাতে কেনা জিনিসপত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানো দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। দীর্ঘ সময় বন্দিদশা কাটিয়ে সাধারণ জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।
পাতায়ার রাতের জীবন, ঝলমলে নিয়ন বাতি এবং উজ্জ্বল পরিবেশে তাদের উপস্থিতি শহরের প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নৌসেনারা তাদের দীর্ঘ সময়ের বেতন থেকে অর্থ খরচ করবেন। তবে, মার্কিন সেনাদের পতিতাবৃত্তি থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তা এবং আইন মেনে চলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব পাতায়ার পর্যটন শিল্পেও পড়েছে। অনেক পর্যটক ভ্রমণ এড়িয়ে গৃহবন্দি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু মার্কিন সেনাদের জন্য ‘ওয়াকিং স্ট্রিপ’ উন্মুক্ত ছিল, যেখানে তাদের স্বাগত জানাতে বিশাল আলোকসজ্জিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল।
এক বয়স্ক নাবিকের কথায়, এই বিরতি তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার ফলে জীবন একঘেয়ে হয়ে উঠেছিল।
২৫ বছর বয়সী নাবিক জাডা ফেয়ারফ্যাক্সের মা জানান, তার ছেলে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ছিল। তিনি তার সন্তানের মুখের হাসি দেখতে এবং মা ডাক শোনার অপেক্ষায় আছেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতিনিধি ক্রিস্টোফার রবিনসন নিশ্চিত করেছেন, তারা নাবিকদের সর্বোচ্চ বিশ্রাম দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এই সফর মার্কিন সেনাদের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘ ও কঠিন মিশনের পর একটি নতুন উদ্যমের সূচনা করবে।



