ঢাকা  বুধবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশনান্দাইলে জেএমজে অ্যাপের মাধ্যমে আয় দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে উধাও

নান্দাইলে জেএমজে অ্যাপের মাধ্যমে আয় দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে উধাও

জালাল উদ্দিন মন্ডল নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ‘জেএমজে কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জেএমজে অ্যাপের মাধ্যমে আয় দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে একটি চক্র উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তিন শতাধিক গ্রাহক তাদের বিনিয়োগের টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে নান্দাইল পৌরসভার সিনেমা হল-সংলগ্ন চণ্ডীপাশা মহল্লায় চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামে এক নারীকে সামনে রেখে জেএমজে অ্যাপের প্রচার শুরু করা হয়। এলাকার যুবক-যুবতীসহ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ওই অ্যাপে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়।
গ্রাহকদের বলা হয়, অ্যাপটিতে ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা লাভসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে। একইভাবে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে প্রতি সপ্তাহে ৪৮০ টাকা এবং ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগে ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে এসব অর্থ অ্যাপের মাধ্যমে উত্তোলন করতে হতো।
প্রথম দিকে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে চক্রটি এলাকায় আস্থা তৈরি করে। পরে প্রায় দেড় মাস আগে চণ্ডীপাশা মহল্লায় শিক্ষক বাদল দত্তের মার্কেটে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ‘জেএমজে কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে অফিস স্থাপন করা হয়। সেখানে নিয়মিত সাপ্তাহিক সভা ও গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হতো। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা আরও বেড়ে যায় এবং দ্রুত গ্রাহকসংখ্যা বাড়তে থাকে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে অ্যাপের মূল সার্ভারে সমস্যা হয়েছে—এমন কথা বলে চক্রটি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কয়েকজন গ্রাহক বিষয়টি জানতে অফিসে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পান। পরে অফিস খোলা হলেও ভেতরে কোনো আসবাবপত্র বা মালামাল পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের সব মালামাল নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে গেছেন।
এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। গ্রাহক জুবায়ের হোসেন, মনির মিয়া ও সুরাইয়া ইয়ামিনসহ কয়েকজন জানান, জেএমজে প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবির প্রয়োজন হতো না। শুধু স্মার্টফোন ও নগদ টাকা দিলেই সদস্য হওয়া যেত। তারা প্রত্যেকে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এখন অফিস বন্ধ এবং অ্যাপটিও কার্যত অচল থাকায় তারা তাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইছমত জাহান তাপসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত ০১৩১১-২৮৭৩৪৫ নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular