পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি মসজিদ ও মাদ্রাসার জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চতরা ইউপি’র সোনাতলা ঝাকিয়াপাড়া গ্রামের এক প্রতাবশালীর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় দারুস সুন্নাহ ক্বওমী একাডেমী মাদ্রাসা ও এতিখানার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা আমীর হামজা গত ২৭ এপ্রিল পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ২০২৩ সালে প্রত্যন্ত পল্লী সোনাতলা গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ নিলে একই গ্রামের মৃত্য লাল মিয়া শেখের পুত্র রফিকুল ইসলাম মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে দলীল মুলে ২৪ শতক জমি হস্তান্তর করেন। জমি প্রাপ্তির পর ২০২৪ সালে নীচু স্থানে মাটি ভরাটের পর তুরস্ক সরকারের অর্থায়নে সেখানে মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করে দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে জনৈক আব্দুল হাই শেখ তার ভোগ দখলীয় সীমানার পরিবর্তে মসজিদ ও মাদ্্রাসার স্থানে তার সীমানা রয়েছে বলে দাবি করে জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। এর কয়েকদিন পর স্বজন ও ভাড়াটে লোকজন সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে প্রবেশ করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভয় ভীতি প্রদর্শন করলে আতংকিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী চলে যায়। এ সময় মহেন্দ্র ট্রলি দিয়ে মাঠ ভর্তি কাদা মাটির অর্ধ শতাধিক স্তুপ সহ ভবন নির্মাণে ইট রাখা হয়। পাশাপাশি মসজিদ ও মাদ্রাসার ঘর দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়।
এ ব্যাপারে ওই গ্রামের আবু শ্যামা ও ওমর ফারুক জানান, ঢাকঢোল পিটিয়ে কয়েকটি গরু-ছাগল কুরবানি দিয়ে আশে পাশের কয়েক হাজার ধর্মপ্রান মুসলমান এই মসজিদ ও মাদ্্রাসা নির্মাণ করে। আব্দুল হাই শেখ পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মসজিদ ও মাদ্্রাসার উপরে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। কয়েকমাস ধরে দ্বন্দ্ব নিরসনে চেষ্টা করা হচ্ছে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এমএ ফারুক অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বলেন , একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি রয়েছে।



