আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব ভূ-রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উত্তর মেরু বরফাবৃত দুর্গম ও বিতর্কিত নর্দার্ন সি রুট হয়ে উঠেছে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক মৈত্রীর প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার বিপরীতে বেইজিং ও মস্কো, মস্কো-নিয়ন্ত্রিত ৩ হাজার ৫০০ মাইল দীর্ঘ এ বিকল্প মেরু জলপথ ব্যবহার করে তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে চলেছে।
ইউক্রেনে আক্রমণের পর থেকে পশ্চিমাদের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া তাদের জ্বালানি ও কাঁচামাল বাণিজ্যের জন্য চীনা বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ফলে রাশিয়ার ‘আর্কটিক এলএনজি-২’ প্রকল্প থেকে তরলী প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অপরিশোধিত তেল বিশেষ শ্যাডো ফ্লিট ও আইসব্রেকারের সাহায্যে হিমাঙ্কের নিচের জলপথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ চীনের বেইহাই ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালে পৌঁছানো হচ্ছে।
লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক প্রধান সমুদ্রপথগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই বরফাবৃত রুটটিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ অঞ্চলে একটি মেরু সিল্ক রোড গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজছেন।
চলতি মৌসুমে সি লিজেন্ড এবং নিউ নিউ শিপিংয়ের মতো বেশ কয়েকটি চীনা কোম্পানি চীন ও রাশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনে নিয়মিত কনটেইনার ও বাল্ক শিপ চালুর অংশ হিসেবে ৫০টিরও বেশি সমুদ্রযাত্রার পরিকল্পনা করেছে। এসব রুটের মাধ্যমে সুয়েজ খালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে, উত্তর মেরু অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও উপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আর্কটিকে চীনের ব্যবসায়িক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার হতে পারে।
ন্যাটোপ্রধান মার্ক রুটে এবং ইইউ পররাষ্ট্রনীতিপ্রধান কায়া কাল্লাস সম্প্রতি সতর্ক করেন, আর্কটিক অঞ্চলে এই পরাশক্তিগুলোর অবাধ প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণহীন হলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াবে। যদিও বেইজিং এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে একে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও নিয়মমাফিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত বলে দাবি করেছে।
তবে বৈরী আবহাওয়া ও পরিবেশগত ঝুঁকি সত্ত্বেও গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনায় ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনীতিতে আর্কটিক যে ক্ষমতার নতুন ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে, তা প্রায় নিশ্চিত।
সূত্র -/সিএনএন/




