নিউজ ডেস্ক: আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এটা গতানুগতিক কোনো সংসদ নয়। সবার আশা ছিল, পরিবর্তনের একটা সূচনা হবে। সে লক্ষ্যেই সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু গণভোটের জন্য সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করা হয়নি। জনগণের রায়ে যখন বাস্তবায়িত হলো না; জনগণের মধ্যে একটা আতঙ্ক, একটা অনিশ্চয়তা, একটা সন্দেহ দেখা দিল।
পাশাপাশি ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২০টির মতো তামাদি করা হলো। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, নির্বাচন কমিশন এই মূল জায়গাগুলো, যেগুলো ঠিক না হলে ফ্যাসিবাদ থেকে এই দেশ ও সমাজ মুক্তি পাবে না, সেগুলোই তামাদি করে দেওয়া হলো।
শফিকুর রহমান বলেন, সবকিছুতেই সংসদকে একতরফাভাবে, একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নীতিগতভাবে এ ধরনের বিলে অংশগ্রহণ করতে আমরা চাচ্ছি না। এর মাধ্যমে সংস্কারের মূল দাবিকেই চাপা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমরা পুরো সংস্কার চাই, গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং এভাবে খণ্ডিত কোনো প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাই না। এ জন্য এখন এ আলোচনায় আমরা অংশ নেব না। এই পর্বে সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি। ওয়াকআউট করছি। আবার যখন উপযুক্ত সময় আসবে, তখন আমরা আসব, অংশগ্রহণ করব; জনগণের পক্ষে কথা বলব।
বিরোধী দলকে ওয়াকআউট থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিরোধী দলের উদ্দেশ্য ছিল আইন প্রণয়নে সহযোগিতা না করা। মানবাধিকার কমিশন আইনটি অন্তর্বর্তী সরকার তাড়াহুড়ো করে ভুলত্রুটি রেখে করেছে। আমরা দেশি-বিদেশি অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে একটি আন্তর্জাতিক মানের আইন বিল আকারে এনেছি। গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনটিও সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে বিল আকারে নিয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল না; কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল না। অনেকটা মার্শাল অর্ডারের মতো আদেশ জারি করা হয়েছিল।



