ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে হরিণ শিকার থামছে না

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে হরিণ শিকার থামছে না

সুন্দরবন প্রতিনিধি :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রাত যত গভীর হয়, সুন্দরবনের অন্ধকার তত ঘন হয়ে আসে। নদীর জোয়ার-ভাটার শব্দের সঙ্গে মিশে থাকে অজানা আশঙ্কা। কোথাও নৌকার ক্ষীণ শব্দ, কোথাও গাছের আড়ালে মানুষের চলাচল। বনরক্ষীদের চোখ এড়িয়ে গভীর বনে ঢোকে একটি চক্র। উদ্দেশ্য একটাই—হরিণ শিকার।

কখনো দীর্ঘ ফাঁদ, কখনো মালা ফাঁদ, কখনো ওত পেতে থাকা শিকারি দল। হরিণের চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে বসানো হয় ফাঁদ। অসতর্ক কোনো হরিণ সেই পথে পা দিলেই শুরু হয় তার শেষ মুহূর্তের লড়াই। এরপর জীবন্ত প্রাণীটি পরিণত হয় অবৈধ মাংসের পণ্যে।

সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার—ঘটনাটি নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধান, উদ্ধার হওয়া মাংস, ফাঁদ, মামলা ও আটক ব্যক্তিদের তথ্য বলছে, অভিযান ও মামলা সত্ত্বেও এই অপরাধ পুরোপুরি থামেনি। বরং বন অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলাচ্ছে।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিয়ে যখন দেশ-বিদেশে উদ্বেগ, তখন বনের ভেতরেই চলছে বন্যপ্রাণী নিধনের এমন এক অন্ধকার ব্যবসা, যার শেষ গন্তব্য শুধু কোনো এক শিকারির নৌকা নয়—লোকালয়ের বাজার, ক্রেতার রান্নাঘর এবং চাহিদার একটি গোপন নেটওয়ার্ক।

উদ্ধার হচ্ছে মাংস, ধরা পড়ছে ফাঁদ—তবু শিকার বন্ধ কোথায়?

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সাম্প্রতিক তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতার একটি চিত্র তুলে ধরে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা রেঞ্জে মোট ২৯৪টি বন অপরাধের মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ৬৩ জন পলাতক থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এই সময় বন বিভাগ ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস এবং ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ জব্দ করেছে। একই সময়ে অবৈধ কাঁকড়া ধরার হাজার হাজার ফাঁদ, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ বনজ সম্পদও জব্দ করা হয়েছে।

শুধু পরিসংখ্যানই নয়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও দেখাচ্ছে অপরাধটি সক্রিয়।

২০২৬ সালের আগস্টে খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০ কেজি হরিণের মাংস, দুটি হরিণের মাথা, নৌকা ও শিকারের সরঞ্জাম উদ্ধার করে বন বিভাগ। অভিযানের আগেই শিকারিরা পালিয়ে যায়।

এর কয়েক মাস আগে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে ৪৮ কেজি হরিণের মাংসসহ একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থাৎ একদিকে অভিযান চলছে, অন্যদিকে কোথাও না কোথাও শিকারের প্রস্তুতিও চলছে।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular