ঢাকা  সোমবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকমলদোভা ভ্রমণ

মলদোভা ভ্রমণ

সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ: পূর্ব ইউরোপের একটি ছোট স্থলবেষ্টিত দেশ মলদোভা। এর আয়তন প্রায় ৩৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে অবস্থিত এই দেশটির রাজধানী কিশিনাউ—যা দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

ইতিহাসের দিক থেকে মলদোভা বহুবার বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। একসময় এটি রুশ সাম্রাজ্য এবং পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন-এর অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।

রাজনৈতিকভাবে মলদোভা একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। তবে রাজনৈতিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ দেশটির উন্নয়নে প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা চললেও দেশটিতে রাশিয়ার প্রভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মলদোভা তার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও আঙুরক্ষেতের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে ওয়াইন উৎপাদনে দেশটির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এখানকার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও গ্রামীণ পরিবেশ দেশটিকে আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছে।

নাগরিক জীবনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি হলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে যায়।ধর্মীয়ভাবে অধিকাংশ মানুষ অর্থোডক্স খ্রিস্টান। ধর্মীয় ঐতিহ্য সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে মলদোভা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আঙুরবাগান, ঐতিহাসিক মঠ এবং শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বিশেষ করে ক্রিকোভা ওয়াইন সেলার বিশ্বের বৃহৎ ভূগর্ভস্থ ওয়াইন সেলারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

১. স্টিফান কেল মেয়ার সেন্ট্রাল পার্ক, চিসিনাউ

Dhaka Post

স্টিফান কেল মেয়ার সেন্ট্রাল পার্ক মলদোভার রাজধানী চিসিনাউয়ে অবস্থিত। ১৭ একর জায়গা জুড়ে এর অবস্থান। এই চিসিনাউয়ের সবচেয়ে পুরনো পার্ক। পার্কটিতে ৫০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের এই পার্কে বেশি ভ্রমণ করতে দেখা যায়। 

২. ডেনড্রারিয়াম পার্ক, চিসিনাউ

প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ভ্রমণের জন্য ডেনড্রানিয়ম পার্ক উপযুক্ত জায়গা। পার্কটি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। গোলাপ, শাপলাসহ আরও নানা ফুল ফোঁটে এই পার্কে। পরিবারের সঙ্গে এই পার্কে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার সুবর্ণসুযোগ রয়েছে। 

৩. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং ইটার্নাল ফ্লেম, চিসিনাউ

Dhaka Post

চিসিনাউ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিখ্যাত দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং ইটার্নাল ফ্লেম। এখানে স্থাপিত ৫টি লাল পিলারকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রোমানিয়ার অন্তর্গত থাকার প্রতীক হিসেবে বলা হয়। 

Dhaka Post

চিসিনাউয়ের খ্রিস্টধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে অত্যন্দ পছন্দের স্থান ক্যাটেড্রালা নাসটিরিয়া ডমনুলুই। গীর্জাটি অর্থোডক্স খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের দ্বারা পরিচালিত। ক্যাটেড্রালা নাসটিরিয়া ডমনুলুই ১৮৩০ সালে স্থাপিত হয়। এর স্থাপত্য নব্যধ্রুপদী যুগের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বারবার এই গীর্জায় হামলা করা হয়। পরবর্তীতে অর্থোডক্স খ্রিস্টীয় স্থাপত্যে গীর্জাটি তৈরি করা হয়। 

৫. ওল্ড ওরেই, ওরেই

Dhaka Post

চিসিনাউয়ের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ওল্ড ওরেই। এর আশেপাশের অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। রয়েছে সুরক্ষিত দুর্গ। ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকরা সহজেই ওল্ড ওরেইয়ে ভ্রমণ করতে আগ্রহী হন। 

৬. মুজিউল ন্যাশনাল দে ইটনোগ্র্যাফি সি ইসটোরি ন্যাটুরালা, চিসিনাউ

Dhaka Post

মলদোভার সবচেয়ে পুরনো মিউজিয়াম মুজিউল ন্যাশনাল দে ইটনোগ্র্যাফি সি ইস্টোরি ন্যাটুরালা। ইংরেজিতে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইথনোগ্র্যাফি অ্যান্ড ন্যাচারাল হিস্টোরি বলা হয়। মিউজিয়ামটিতে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার আর্টিফ্যাক্ট সংরক্ষণ করা রয়েছে। মিউজিয়ামের পাশে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন। 

৭. সরোকা দুর্গ, সরোকা

Dhaka Post

সরোকা দুর্গ মলদোভার সরোকা শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটি ১৪৯৯ সালে স্টিফেন দ্য গ্রেট নির্মাণ করেন। দুর্গটির স্থাপত্য ইউরোপের মধ্যযুগের সময়ের। পর্যটকদের কাছে এটি অনেক পছন্দের জায়গা। 

৮. ভালিয়া মরিলর, চিসিনাউ

Dhaka Post

মলদোভার চিসিনাউ শহরের বুইয়ুকানি শহরে ভালিয়া মরিলর পার্ক অবস্থিত। এইখানে ভালিয়া মরিলর লেক রয়েছে। পার্কটি রবার্ট কুর্জের নেতৃত্বে নির্মিত হয়। এই পার্কে থাকা জলপ্রপাতের জন্য পার্কটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা।

//সাদ্দাম উদ্দিন আহমদ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular