২৭ জুলাই ২০২৬ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আহমেদ আযম খান-এর সাথে তাঁর কার্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন (Ambassador Brent Christensen) এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের কল্যাণ সাধন এবং আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ এনডিসি এবং যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) মোঃ জেহাদ উদ্দিন। অপরদিকে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন নোট টেকার মি. জোশ পোপ (Mr. Josh Pope), প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার মিস রিকি সালমিনা (Ms. Ricky Salmina) এবং প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাদ বিন এলাহী (Saad Bin Elahi)।
আলোচনাকালে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও নির্ভুল তালিকা তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও অতীতে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির অভাবে একটি সর্বজনগ্রাহ্য ডাটাবেজ তৈরি জটিল ছিল। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি (ICT) এবং ডিজিটাল প্রোফাইলিং প্রসেস ব্যবহার করে সঠিক ও নিরপেক্ষ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ পুরোদমে চলছে।
বৈঠকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বৈপ্লবিক পদক্ষেপসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষায়িত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর আওতায় ৮৪৩ জন বীর শহীদ এবং ১৫,০৩০ জন আহত যোদ্ধার বিস্তারিত ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছে।
শহীদ পরিবারসমূহে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা অনুদান এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য ক্যাটাগরি ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’-এর আওতায় যথাক্রমে ৫ লাখ, ৩ লাখ এবং ১ লাখ টাকার এককালীন অনুদান এবং নিয়মভিত্তিক মাসিক ভাতা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১৫৪ জন সংকটাপন্ন আহতকে সরকারি খরচে থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও রাশিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এ খাতে ৪৪৮.১১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সাক্ষাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী কার্যক্রম, বিশেষ করে আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল করার প্রয়াস এবং জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা (যেমন- ন্যাশনাল আর্কাইভস, স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউট) উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ একটি সতত চলমান প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সঠিক ইতিহাস সুরক্ষায় এবং ডাটাবেজ তৈরিতে মার্কিন পাব্লিক ডিপ্লোমেসি টিমের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
বৈঠক শেষে মাননীয় মন্ত্রী জনাব আহমেদ আযম খান সম্মানিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনাবলীভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ এবং ‘বেগম খালেদা জিয়া: দ্য লাইফ অ্যান্ড স্টোরি’ সহ অন্যান্য স্মারকগ্রন্থ ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তর করেন।




