স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে ট্রাকভর্তি ডাব
নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ডাবের বাণিজ্য। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি ডাব রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বাণিজ্যের মাধ্যমে মাসে কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া নারিকেল গাছের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বসতভিটা, উঁচু জমি, পুকুরপাড় ও পতিত জমিতে লাগানো গাছ থেকেই প্রচুর ডাব উৎপাদন হচ্ছে। এ উৎপাদনকে ঘিরে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার চর আবাবিল এলাকায় নারিকেল গাছের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এখানকার ডাবের পানি বেশি মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। যদিও বাণিজ্যিকভাবে নারিকেল চাষ তেমন নেই, তবে বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছ থেকেই উৎপাদিত ডাব এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
রায়পুরের কেরোয়া ও চরবংশী এলাকার ব্যবসায়ী মনুয়া হোসেন ও জাকির মিয়া জানান, তারা প্রায় ১৮ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুরুতে অল্প পুঁজিতে ঢাকায় ডাব সরবরাহ করলেও এখন তাদের ব্যবসা বড় পরিসরে বিস্তৃত হয়েছে।
তারা বলেন, “প্রতি ১০০টি ডাব ১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে পাইকারিতে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করি। গরম যত বাড়ে, চাহিদা ও দামও তত বাড়ে। বর্তমানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ট্রাক ডাব বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।”
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। তারা বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে গ্রাম ঘুরে গাছ থেকে ডাব সংগ্রহ করেন। পরে আকারভেদে তিনটি গ্রেডে ভাগ করে বাজারজাত করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস ডাব ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কিনে থাকেন এবং পাড়া বাবদ অতিরিক্ত খরচও বহন করতে হয়।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, ডাবের পানিতে প্রচুর পটাশিয়ামসহ নানা পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী। তবে খালি পেটে না খেয়ে কিছু খাবার পর ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলার চর আবাবিল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর শরীফ জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নারিকেল গাছের ভালো ফলন হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবছর উন্নত জাতের নারিকেল চারা বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে রায়পুরের এই ডাব শিল্প আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।



