নীলফামারী প্রতিনিধি : পুলিশের গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে একজন দক্ষ শিক্ষকের মতো শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফইম উদ্দীন। মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে উপজেলার পৌর এলাকা কয়ানিজপাড়ায় অবস্থিত সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যন্ড কলেজে এসে ১০ম শ্রেণির ক্লাস নেন তিনি। এ সময় তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও মূল্যবোধ সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। ছাত্রছাত্রীরাও তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। দেখে মনে হচ্ছিল তিনি পেশায় একজন শিক্ষক।
তার টানা প্রায় ঘণ্টা দু’য়েকের ক্লাসে উঠে আসে মাদকাসক্ত, নাবালিকার বিয়ের প্রতিরোধ, মোবাইলফোনে আসক্তির কুফল, নারী নিগ্রহ, শ্লীলতাহানি কিংবা যৌন হেনস্থা সমস্যার মতো অনেক বিষয়ও। ক্লাসে স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় কোনো ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয় কিনা সে বিষয়ে ছাত্রীদের কাছে জানতে চান ওসি। পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক যে কোনো সমস্যায় তার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের যোগাযোগের জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
ওসি ফইম উদ্দীন বলেন, বেশ কিছু থানাতে কাজ করার পরে আমার অভিজ্ঞতা—নাবালিকার বিয়ে, নারী নিগ্রহ, শ্লীলতাহানি কিংবা যৌন হেনস্থা, মাদককের কারবার, অনলাইনে জুয়া খেলার মতো ঘটনা প্রায় ঘটে। কিন্তু সে সব বিষয়গুলি সবসময় থানা পর্যন্ত আসছে না। সমস্যাটা শুরু হয় সেখানেই। এতে যেমন অপরাধী দোষ করেও পার পেয়ে যায়। অন্যদিকে, নির্যাতিত কিংবা লাঞ্ছিত অনেকেই প্রতিবাদের সাহস হারিয়ে ফেলে।
তিনি আরও জানান, এ জন্যই তিনি থানার কাজ সামলে সময় করে যোগাযোগ করছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে। তারপর একদিন হাজির হয়ে যাচ্ছেন সটান ক্লাসরুমে। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রায় ১৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিয়েছেন। তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ছাত্রছাত্রীরাও খুব খুশি হয়েছে ওসির ক্লাস করে। তারা জানায়, এতে তাদের ভয় ও জড়তা কেটেছে’’।
সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েল বলেন, এটার দরকার ছিল। এমন উদ্যোগের ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্রমশ সচেতনতা সৃষ্টি হবে। কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে তারা। তাঁর কথায়, ‘‘এর সুফলও অবশ্যই পাওয়া যাবে।



