ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশঢাকা২০২৬-২৭ অর্থবছরের বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যিনি ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম বাজেট পেশ করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনা করছেন ।

এমন সময়ে বাজেট আসছে, যখন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবে দেশের অর্থনীতি প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং মাথাপিছু আয়ও ৩ হাজার ২০ ডলার-এ পৌঁছেছে। সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন ডলার, আর মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি করনীতি, কর্মসংস্থান, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের স্বস্তি ফেরাতে কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাবও রয়েছে বলে সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে। বাজেটের এই কাঠামোকে বড় অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রয়াস হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এডিপির আকার প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ আসবে সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে, আর বাকিটা বৈদেশিক সহায়তা ও প্রকল্পঋণ থেকে মেটানোর পরিকল্পনা আছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদও উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে বলে খবরটিতে বলা হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে এবারও বড় লক্ষ্যমাত্রা থাকছে। এনবিআরকে দিয়ে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের কর আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে বাজেট ঘাটতি সামাল দেওয়া যায়। এ ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বড় বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির বাস্তব অগ্রগতির ওপর।

নতুন বাজেটে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আবার দেশীয় ইলেকট্রনিকস, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও কিছু ভোক্তা পণ্যে কর-শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাবও রয়েছে। ব্যক্তি করদাতাদের জন্য আয়কর রোডম্যাপ, নারীবান্ধব ও প্রবীণবান্ধব কর-সুবিধা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের করছাড়ের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় আছে।-

সব মিলিয়ে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই বাজেট অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা ও শিল্পোন্নয়নের এক বড় পরীক্ষা হিসেবে সামনে আসছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular