বিশেষ প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরকে দীর্ঘদিনের পণ্যজট থেকে মুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপে যাচ্ছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৩ সালে নিলাম হওয়ার পরেও নানা কারণে জমে থাকা ৩৩ বছরের পুরোনো মালামাল খালাসে দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতারা পণ্য না নেওয়ায় এবার এসব চালান চূড়ান্ত নিষ্পত্তির কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ থেকে ওই সব চালান খালাসের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টরা পণ্য খালাসে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।
বুধবার (৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) নাজমুল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘কী পরিমাণ পণ্য রয়েছে তা এখনও নির্ণয় করা হয়নি।
তবে কর্মকর্তারা অ্যাসেসমেন্ট চালু রেখেছেন। ১৯৯৩ সালের নিলাম হওয়া পণ্য চালানও এখনও নিষ্পত্তি না হয়ে পড়ে আছে বন্দরের ইয়ার্ডে। এ সংক্রান্ত নিলাম পাওয়া ব্যবসায়ীর পে-অর্ডার এখনও কাস্টম হাউসে জমা রয়ে গেছে। বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য এ উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের পণ্য খালাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার এ সময়সীমার শেষ দিন। এরপর প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বৈধ দাবি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করা হলে সংশ্লিষ্ট পণ্য নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে সময়সীমার মধ্যে পণ্য খালাস না করা আমদানিকারক বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য এ সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের নিলাম বিভাগ থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিলামকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্যচালানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিংলাইন বা অ্যাজেন্ট, কাস্টমস ট্রেডারসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র দাখিল এবং পণ্য খালাসের অনুরোধ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস করা না হলে এবং কোনো পক্ষ বৈধ দাবি, স্বত্ব, আপত্তি কিংবা আদালতের আদেশ যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে পণ্য পুনঃনিলাম, ধ্বংস অথবা অন্যান্য আইনানুগ নিষ্পত্তির কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বন্দরের ইয়ার্ড, শেড ও সংরক্ষণাগারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্যের কারণে একদিকে বন্দরের জায়গা ব্যবহারে চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে এসব পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে পণ্যজট ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাস্টমসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্দরের ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার, পণ্যজট নিরসন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্যচালানের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শেষবারের মতো সময় দেওয়া হয়েছে।
কাস্টম হাউস জানায়, নিলাম হওয়া কনটেইনার রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি। মামলা সংক্রান্ত বাধাসহ বিভিন্ন কারণে এসব কনটেইনার খালাস হয়নি।
/রাশিদুল রাশেদ/




