ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাঅভাব জয় করে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন লিকা

অভাব জয় করে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন লিকা

ক্রীড়া ডেস্ক: অভাবের সংসার, নদীতে মাছ ধরে বাবার জীবিকা নির্বাহ, আর সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বড় কিছু করার স্বপ্ন। সব বাধা পেরিয়ে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের সাফল্যের মঞ্চে লিকা পোদ্দার।

৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের নারী এককে সাবেক চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্মি আক্তারকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সিনিয়র জাতীয় শিরোপা জিতেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার এই শাটলার। শিরোপা জয়ের আনন্দে মংলায় থাকা মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ২৪ বছর বয়সী লিকা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে উর্মিকে ২২-২০, ১১-২১ ও ২১-১৮ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন লিকা। প্রথম গেমে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় গেমে পিছিয়ে পড়লেও নির্ণায়ক তৃতীয় গেমে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। পাঁচ বছরের সিনিয়র ক্যারিয়ারে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন মংলার এই শাটলার।

লিকার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম আর সীমিত সামর্থ্যের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। মংলার একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা তার। বাবা পেশায় মৎস্যজীবী; নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে চলে সংসার। বাবা-মা ও দুই বোনের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা কখনোই ছিল না। সেই বাস্তবতার মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন লিকা। এখন পরিবারের দায়িত্বও অনেকটাই এসে পড়েছে তার কাঁধে।

জাতীয় পর্যায়ে শিরোপা জয়ের পথটাও তার জন্য সহজ ছিল না। সার্ভিসেস দলের খেলোয়াড় না হয়েও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে হয়েছে তাকে। এ যাত্রায় সহযোগিতা পেয়েছেন ‘এলোরা শাটলিন একাডেমি’, কাওসাকি ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপ এবং কোচের কাছ থেকে। তাদের সহায়তা ও নিজের কঠোর পরিশ্রমকে সম্বল করেই ধাপে ধাপে এগিয়েছেন জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শীর্ষে।

ফাইনাল জয়ের পর লিকার আনন্দের প্রকাশ ছিল ভীষণ আবেগঘন। মংলায় থাকা মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মেয়েকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতেন তার মা। দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা পূরণের মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিকা নিজেও। পাঁচ বছরের সিনিয়র ক্যারিয়ারে এটাই ছিল তার প্রথম ফাইনাল। আর প্রথম ফাইনালেই শিরোপা জয়—এমন অর্জনের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। ফাইনালের চাপ সামলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত এই শাটলার।

লিকার কাছে এই শিরোপা তাই কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন আঁকড়ে থাকার এক বড় প্রাপ্তি। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য, ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার নানা চ্যালেঞ্জ—সবকিছুর মধ্যেও যে পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়, তার এই জয় যেন সেই বার্তাই দেয়।

প্রথম সিনিয়র জাতীয় শিরোপা জয়ের পরও থেমে থাকতে চান না লিকা। আগামী দিনেও নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মংলার নদীতে মাছ ধরে যে বাবার সংসার চলে, সেই পরিবারের মেয়ের হাতে এখন জাতীয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট। এই অর্জন লিকার ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি তার পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সামনে পথ আরও দীর্ঘ, চ্যালেঞ্জও থাকবে। তবে প্রথম সিনিয়র জাতীয় শিরোপা জিতে লিকা বুঝিয়ে দিয়েছেন, সীমাবদ্ধতা তার যাত্রাকে কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্নের গন্তব্য নির্ধারণ করে দিতে পারে না।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular