ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআইন ও আদালতইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণ

ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণ

নিউজ ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য আজ উপস্থাপন হবে। একই দিনে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণও অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, যা চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে রয়েছে, সূচনা বক্তব্যের পর সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ইনু আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘সো-কলড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে প্রসিকিউশন তার এই মন্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অংশ হিসেবে দেখছে এবং ইনুর আবেদন বাতিলের দাবি করছে। আজ ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে আদেশ দিতে পারে।

এর আগে, ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। ওইদিন বিচারক আটটি অভিযোগ ইনুকে পড়ে শোনান। সেই শুনানিতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন ইনু। ২৮ অক্টোবর তার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে অভিযোগগুলোর অযথার্থতা উল্লেখ করে ইনুর অব্যাহতির আবেদন করা হয়। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতা হিসেবে ইনু দায় এড়াতে পারবেন না।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় সহযোগিতাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। এরপর শুনানিতে অভিযোগগুলি উপস্থাপন করা হয় এবং আদালত অভিযোগ গ্রহণের পর প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করে।

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। জাসদ নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ায় নিজের আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে কুষ্টিয়া শহরে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগ আনে। মামলার ফরমাল চার্জ ৩৯ পৃষ্ঠার, ২০ জন সাক্ষী করা হয়েছে এবং প্রমাণ হিসেবে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও দাখিল করা হয়েছে।

 

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular