২২ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য, একটি কলেজে টানা দুই বছর শূন্য পাসের হার
সৈয়দ নূরুল্লাহেল সাদেক, জামালপুর প্রতিনিধি ; জামালপুরের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে মেলান্দহ উপজেলার একটি কলেজে টানা দুই বছর ধরে পাসের হার শূন্য।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে।
বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেননি।
মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চর সগুনা এলাকার এস এম শিখা মুখলেছুর রহমান কলেজ থেকে এবার ব্যবসায় শিক্ষা শাখার দুজন ও মানবিক শাখার দুজনসহ মোট চারজন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
কলেজটির ফলাফল গত বছরও একই রকম ছিল। ২০২৫ সালে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার চারজন ও মানবিক শাখার ছয়জনসহ মোট ১০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যেও কেউ পাস করেননি। ফলে টানা দুই বছর কলেজটির পাসের হার শূন্য।
এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন এবং ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠানেরও কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। সেখানে কর্মরত শিক্ষকেরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন। এ কারণে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। গত বছরও প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ ছিল, তবে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আগামী বছর ফলাফলের উন্নতির চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য—বিষয়টি তাঁদের জানা আছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



