ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকখামেনির শেষ বিদায়ে ফের ইরানে মার্কিন হামলা

খামেনির শেষ বিদায়ে ফের ইরানে মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা পরিচালনা করে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত হওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহকে ঘিরে ইরানে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও বিদায় কর্মসূচি চলছে। তেহরান, কোম এবং পরে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন। ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; বরং দেশটির রাজনৈতিক ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফা বিমান হামলা চালায়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সৃষ্ট হুমকির জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কিছু সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

হামলার পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে। একই সঙ্গে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করে, আঞ্চলিক যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরান সরকার জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণকে সরকার পশ্চিমা চাপের মুখেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। তবে একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।-

কূটনৈতিক মহলের মতে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের সময় মার্কিন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকারও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular