নিউজ ডেস্ক : জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তাঁকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম স্বাক্ষরিত এক আধা-সরকারি (ডিও) পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঠানো ওই পত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার, সুশাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আইরিন খানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও স্বীকৃতি বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের নীতি ও অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং জাতিসংঘে দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গতিশীল করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সরকারের প্রত্যাশা।
ডিও লেটারে তাঁর নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আইরিন খান মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সুইজারল্যান্ডের গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, জেনেভায় শিক্ষকতা করছেন।
২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তাঁর নেতৃত্বেই নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশন (IDLO)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশে সংস্কার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইরিন খান ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিডনি পিস প্রাইজ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নীতিনির্ধারণী ফোরামে তিনি নিয়মিত বক্তা ও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, অভিবাসন, মানবাধিকার এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।-
উল্লেখ্য, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক পদগুলোর একটি। এই প্রতিনিধি জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশন, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।




