আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) শীর্ষ ১০ মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক আসামির তালিকায় সতীন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তায় বা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদানে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
এফবিআই জানিয়েছে, গোল্ডি ব্রার যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাজুড়ে সহিংস অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ‘লরেন্স বিষ্ণোই সংগঠিত অপরাধী চক্রের’ অন্যতম সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত।
সংস্থাটির মতে, এই অপরাধী চক্রটি টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড (যার মধ্যে একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হত্যা অন্তর্ভুক্ত), গুলিবর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হামলা এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত।
১৯৫০ সালে এফবিআইয়ের ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকা তৈরির পর থেকে গোল্ডি ব্রার হলেন ৫৪৩তম ব্যক্তি, যাকে এই তালিকায় যোগ করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, উত্তর আমেরিকায় এই অপরাধী চক্রটির প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রার।
মার্কিন প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট গত ১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক চক্র পরিচালনা, চাঁদাবাজি এবং মাদক কেনাবেচা ও পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এফবিআই আরও জানায়, ব্রারের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ও ফ্রেসনো ছাড়াও কানাডা, ভারত এবং মেক্সিকোর যোগসূত্র রয়েছে। বর্তমানে সে ক্যালিফোর্নিয়া বা কানাডার কোনো এলাকায় অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সশস্ত্র বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ইন-চার্জ (এডিআইসি) গ্র্যান্ডি জানান, গোল্ডি ব্রার একজন বিপজ্জনক অপরাধী। তাকে গ্রেপ্তার করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই তাকে শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তথ্যদাতার জন্য ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এফবিআই সাধারণ জনগণের কাছেও তার অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে আবেদন জানিয়েছে।
এর আগে গত ৭ জুলাই মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস ‘অপারেশন হার্ডবল’-এর অংশ হিসেবে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করে। ভারতীয় অপরাধী সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের তদন্তের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) ডেপুটি কমিশনার লিসা মোর্ল্যান্ড বলেন, গোল্ডি ব্রার ও তার নেটওয়ার্ক হাই-প্রোফাইল হত্যা, গুলিবর্ষণ, প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের মাধ্যমে অজস্র মানুষের জীবন ছারখার করেছে। তাকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করা ব্রারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃঢ় ইচ্ছারই প্রতিফলন।
সূত্র: দ্য ট্রিবিউন




