নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই ১৯৭৬ সাল। ভোর চারটা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। শ্রাবণের আর্দ্র রাত বিদায় নিচ্ছে। এই দেশ, এই জাতি, এই সময় আর সমাজের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় ঘটনা ঘটে গেল কারাভ্যন্তরে।
মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে পা হারানো একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম বীর সেনানায়ক কর্নেল আবু তাহের, বীর উত্তমকে তাঁরই মুক্ত করা স্বদেশভূমিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হলো। ক্ষুদিরাম বসু, সূর্যসেনের সঙ্গে, গত শতাব্দীর শেষ প্রান্তে আরেকটি নাম যুক্ত হলো—কর্নেল আবু তাহের।
কর্নেল তাহের, সময়ের সাহসী পুরুষ। যাঁর কাছে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটির মানে হচ্ছে সামগ্রিক মুক্তি। মুক্তিকামী একটি নিপীড়িত জাতির মুক্তিচেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে তিনি যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকে তিনি দেখেছিলেন ঔপনিবেশিক শোষণমুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত একটি জনযুদ্ধ হিসেবে।
সেনানায়ক হিসেবে তিনি সে দৃষ্টিকোণ থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন, সম্মুখসমরে একটি পা হারিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে, নিরাপদ স্থানে বসে নির্দেশ প্রদান করেননি।
স্বাধীন গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি আমলাতান্ত্রিক, উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কহীন, শাসকের হাতিয়ার বাহিনীর ঔপনিবেশিক কাঠামো ভেঙে জনতার বাহিনী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।




