আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলটের হামলার মুখে পড়েও চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ১৮০ জনের প্রাণ বাঁচানো মূল পাইলট হলেন ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালনায় ১৩ বছরেরও বেশি বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি একজন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার পেশাগত জীবন সম্পর্কে জানা যায়, লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি চার বছর ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করছেন। এর আগে তিনি ভারতের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন স্পাইসজেটে ১০ বছর কর্মরত ছিলেন।
তিনি ২০১১ সালে স্পাইসজেটে যোগ দেন এবং সেখানে লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন ও সিনিয়র কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের জুনে স্পাইসজেট ছেড়ে ফ্লাইদুবাইয়ে সরাসরি ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। তার ভাইও সম্প্রতি এই এয়ারলাইন্সে যোগ দিয়েছেন।
ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
পথিমধ্যে ককপিটে কো-পাইলট হঠাৎ প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছারের ওপর চড়াও হন এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে ফ্লাইটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালান।
ককপিটে ধস্তাধস্তির ওই সময়ে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। তবে চরম বিপদ ও নিজে ছুরিকাহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার হামলাকারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালান।
একইসময় ফ্লাইটের একজন ক্রু সদস্য ও এক যাত্রী ককপিটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারীকে কাবু করেন এবং অন্য পাইলটের সহায়তায় ফ্লাইটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে ইসরায়েল, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকরা ছাড়াও চারজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন।
ঘটনার পর জানা গেছে, বর্তমানে আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তার এই সাহসিকতা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি




