নিউজ ডেস্ক : লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গণভোটের সমর্থনে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতার নাম রাকিবুল হাসান। তিনি আদিতমারী উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার দুপুরে ‘এমডি রাকিবুল হাসান’ নামে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে তিনি “টালবাহানা না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন” শীর্ষক একটি পোস্ট দেন।
পোস্টটি দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তা দলীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করে।
সোমবার (৩০ মার্চ) লালমনিরহাট জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আমরুল হাসান মোল্লা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দলের অন্য নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে তিনি লালমনিরহাট জেলা শহর ও আদিতমারীতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০২২ সালে বিএনপির আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি হামলার শিকারও হন। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তার নিয়মিত উপস্থিতি ছিল বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়।
বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাকিবুল হাসান বলেন, তিনি স্কুলজীবন থেকেই বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান তাকে রাজনীতিতে টেনে আনে। তাঁর ভাষ্য, দেশের মানুষের স্বার্থে গণভোট বাস্তবায়ন জরুরি, আর সেই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াই তার বহিষ্কারের কারণ। তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দ্রুত সাংগঠনিক শাস্তি দেওয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




