নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভালোবাসায় সরকারে এসে এখন যাঁরা গণভোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং ক্রমান্বয়ে তা আরও শক্তিশালী করা হবে। প্রয়োজনে আগামীতে ‘এক দফা’র ডাক দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরের মানুষকে ঢাকায় গিয়ে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
আজ শনিবার বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক শিববাড়ি মোড়ে সাত দফা দাবিতে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহ্বায়ক ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের সঞ্চালনায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যাঁরা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করবেন, তাঁরা ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন বলছেন গণভোট মানেন না। ৭০ ভাগ ভোটার গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁরা বলেছিলেন, তাঁরা ওসব মেনে নিয়েছিলেন, ভোটটা যেন কোনো অবস্থায় বিলম্বিত না হয়। অর্থাৎ তাঁদের গদিতে বসা যেন দেরি না হয়। এখন গদি পেয়ে গেছেন, গণভোটের বিষয়ে আর কোনো কথা নেই।’
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সরকার কিছু কার্ড বিতরণ ছাড়া কিছুই করেনি। কার্ডে দেওয়া হচ্ছে এক থেকে আড়াই হাজার টাকা, আর শুধু গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের নামেই প্রতি মাসে জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা।
গ্যাস না দিয়েও বিল নেওয়া হচ্ছে এবং বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভুতুড়ে বিল আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এগুলোর মাধ্যমে জাতির অর্থকে ডাকাতি করা হচ্ছে।’
দেশে চলমান সার সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০ থেকে ৫০ লাখ এবং কোথাও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে খাবলাখাবলি চলছে, অথচ কৃষক মাঠে সার পাচ্ছে না।
আন্দোলনে নামার কারণ ব্যাখ্যা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জাতিকে চাঁদার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার ঠেকানোর জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। পরিষ্কার বার্তা, এবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হবেই, ইনশা আল্লাহ। যত দিন পর্যন্ত একটা শোষণমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত, সাম্যের ও মানবিক বাংলাদেশ গঠিত না হবে, তত দিন আন্দোলন কর্মসূচি একটার পর একটা, শক্ত থেকে মহাশক্তের দিকে যাবে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এ ছাড়া সমাবেশে এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, ছাত্রশিবিরসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন।
বাগেরহাটের কাটাখালিতে পথসভা
খুলনায় পৌঁছানোর আগে লংমার্চের অংশ হিসেবে আজ দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে আরেকটি পথসভা করেন জামায়াতের আমির।
খুলনায় পৌঁছানোর আগে লংমার্চের অংশ হিসেবে আজ দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে আরেকটি পথসভা করেন জামায়াতের আমির।
সেখানে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি একটাই—১২ ফেব্রুয়ারি ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে রায় দিয়েছে, বিএনপিকে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির সঙ্গে গাদ্দারি আমরা বরদাশত করব না।’ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে বাকি ছয় দফার যন্ত্রণা জনগণকে আর ভোগ করতে হবে না উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভালোয় ভালোয় মেনে নেন, তা না হলে জনগণ জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়।’
কাটাখালির পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি ইউনুস আলী, এবং এনসিপির বাগেরহাট জেলার প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার সোহেলসহ ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।



