চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত কি না তা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যদিয়েই আবাসিক হলে আসন নিশ্চিত করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। এর ব্যতিক্রম হলে শিক্ষার্থীরা সিট পাবে না। দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ডোপ টেস্টের কার্যক্রমে নাম লিখাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বৃহস্পতিবার ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন।
সূত্রে জানা যায়, ৩৫০ টাকা খরচে এই টেস্ট করতে পারছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে ডোপ টেস্ট। প্রথম দিনের হিসেবে আজ মোট ৭২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়। ডোপ টেস্টের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কো-অর্ডিনেটর করছেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান।
কয়েকটি পর্যায়ে করা হচ্ছে ডোপ টেস্ট। প্রথমে শিক্ষার্থীরা ডোপ টেস্টের ফিস জমা দেয়ার ব্যাংক রশিদ দিচ্ছে পরে নাম, বিভাগ,হল এন্ট্রি করছে,তারপর তাকে একটি টোকেন দিয়ে ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে নমুনা সংগ্রহের জন্য। পরে তাকে ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে মোবাইলে ক্ষুদ্র বার্তা জানানো হবে।
মুশফিক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই কার্যক্রমকে আমি স্বাগত জানাই। এটার মাধ্যমে মাদকাসক্ত কোন শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারবে না।এছাড়া কাউন্সেলিং সেন্টারের কার্যক্রমের ব্যবস্থা করেছে এটা সব শিক্ষার্থীর জন্যই উপকারে আসবে।
শাফায়াত জামিল নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের অনেক আগে থেকে ডোপ টেস্টের দাবি ছিল। কারণ ক্যাম্পাসের আশে পাশে অনেক মাদক ব্যবসায়ী আছে। তারা মাদক সরবরাহ করছে ক্যাম্পাসে। এসব উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসনের যে উদ্যোগ তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
ডোপ টেস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত কিনা তা পরীক্ষা করার জন্যই এই ডোপ টেস্ট। যদি ডোপ টেস্টের মাধ্যমে কোন শিক্ষার্থীর রিপোর্ট পজিটিভ আসে তাহলে তাকে ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে আনতে আমরা কাউন্সেলিং সেন্টারে পাঠানো হবে। কাউন্সিলিং করার মাধ্যমে মাদক থেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে ।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা মাদকসেবন নিয়ন্ত্রণ করে মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার জন্য ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নিয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা আজকে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের খরচ কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী এর মাধ্যমে মাদক মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসক ডা: আবু তৈয়ব বলেন, ডোপটেস্টের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেনজুডাইয়াজিপাইন অন্তর্ভুক্ত স্লিপিং পিল, মারিজুয়ানা (গাঁজা), ইয়াবা ও আফিম। স্লিপিং পিলের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী গ্রহণ করা হলে তা গ্রাহ্য করা হচ্ছে। তবে তা মাত্রাতিরিক্ত হলে ওই শিক্ষার্থীর তথ্যগুলো আমরা কাউন্সিল টিম ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে দেব। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে কাউন্সিলিং করানো হবে অথবা পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।



