ঢাকা  সোমবার, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeস্বাস্থ্যজন্মনিয়ন্ত্রণে ইনজেকশন নিয়ে ঝুঁকিতে নারীরা

জন্মনিয়ন্ত্রণে ইনজেকশন নিয়ে ঝুঁকিতে নারীরা

নিউজ ডেস্ক : সারাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহী নারীদের সরকারি খরচে ইনজেকশন (ভায়াল) দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিন মাস মেয়াদের ইনজেকশনে বেশ কয়েকটি জেলায় ওষুধের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। শরীরে প্রয়োগ করার পর বিষয়টি মাঠকর্মীদের নজরে আসে। ফলে ইনজেকশন গ্রহণকারী অনেকের এখন অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, মানিকগঞ্জ, জামালপুর,নওগাঁসহ বেশ কয়েকটি জেলায় পরিমাণে কম ওষুধ থাকা ভায়াল প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সারাদেশে এ ইনজেকশন সরবরাহ করে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। মাঠকর্মীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ করে। এর পর ইনজেকশন প্রয়োগ বন্ধের নির্দেশ ছাড়াও পরিমাণ কম থাকা ভায়ালের গুণগত মান পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

কনো ড্রাগসের সরবরাহ করা ‘প্রভেরা’ ইনজেকশনে পরিমাণের তুলনায় কম ওষুধ থাকলে, এটিতে গর্ভধারণের ঝুঁকি থেকেই যাবে। যাদের শরীরে প্রয়োগ হয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

জানা যায়, সরকারিভাবে দম্পতিদের মধ্যে পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। ইনজেকশন দেওয়া হয় তিন ও ছয় মাস মেয়াদে। দরিদ্র শ্রেণির নারী এসব সামগ্রীর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। প্রতি মাসে ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি গর্ভনিরোধ সামগ্রী সরকারি পর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও দীর্ঘদিন মাঠ পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর চরম সংকট চলছে। ২৫ উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো সামগ্রী নেই। ৩২৭ উপজেলায় ইনজেকশনের মজুতও শেষের পথে। এরই মধ্যে এমন ঘটনা সামনে এলো।

প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভনিরোধ ইনজেকশন খুবই সংবেদনশীল। এতে আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ করে ওষুধের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

অবশ্য সংকট নিরসনে উন্নয়ন বাজেট থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী কেনার জন্য গত বছর নভেম্বরে দরপত্র আহ্বান করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড প্রভেরা ইনজেকশন সরবরাহের কাজ পায়। দরপত্রের বিপরীতে সরকার ২৭ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭০ লাখের বেশি ইনজেকশন কেনে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইফুল্লাহিল আজম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত চলছে। ওষুধ কম থাকা ভায়াল প্রয়োগ বন্ধে মাঠ পর্যায়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গুণগত মান যাচাইয়ে ত্রুটিপূর্ণ ভায়ালগুলো ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োগের ফলে সমস্যা হতে পারে– প্রতিবেদনে এমন কিছু পেলে টেকনো ড্রাগসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular