ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকতাইওয়ানে শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র আঘাত

তাইওয়ানে শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরাক্রমশালী ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’র আকস্মিক তাণ্ডবে অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। উত্তর-পূর্ব উপকূলের দিকে দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা এই শক্তিশালী সাইক্লোনের প্রভাবে পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের শত শত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড় চাম্পির প্রভাবে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ঝড়ে অন্তত ১ হাজার ৭৭১ জন আহত হয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার তাইওয়ানের প্রায় ২২টি কাউন্টি ও শহরের সকল স্কুল, কলেজ এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি ঘোষণা করা হয়। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল শেয়ার বাজারও।

তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্রটি হয়তো স্থলভাগে সরাসরি আঘাত না-ও হানতে পারে, তবে এর প্রভাবে শনিবার পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত রেকর্ড বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে বয়ে যেতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার বেগের বিধ্বংসী দমকা হাওয়া। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সমুদ্র উপকূল ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর একের পর এক প্রলয়ংকরী ঝড় আঘাত হানছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় চাম্পি যখন ফিলিপাইন সাগরে অবস্থান করছিল, তখন এটি ঘণ্টায় ২৯৮ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে চলতি বছরের পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন’-এ পরিণত হয়।

তাইওয়ানের পাশাপাশি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জেও ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে চাম্পি। সেখানে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং জাপানের চারটি প্রধান বিমান সংস্থাই তাদের ১৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় বাতানেস দ্বীপেও এর প্রভাবে উত্তাল সমুদ্র ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের পর এ বছরই পুরো অঞ্চলে রেকর্ড সংখ্যক ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি দেখা যাচ্ছে। তাইওয়ান উপকূল অতিক্রম করার পর এটি চীনের পূর্ব উপকূল হয়ে জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular