ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকদোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগোচ্ছে রাশিয়া, আতঙ্কে শহর ছাড়ছে বাসিন্দারা

দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগোচ্ছে রাশিয়া, আতঙ্কে শহর ছাড়ছে বাসিন্দারা

পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নজরে রয়েছে মস্কোর। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বিনিময়ে যুদ্ধ স্থগিত করবেন তিনি। রাশিয়া এরই মধ্যে দোনেৎস্কের ৭০ শতাংশ এবং প্রতিবেশী লুহানস্কের প্রায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এখন দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ পেতে ধীরে ধীরে সামনে এগোচ্ছে মস্কো।
বিবিসি জানায়, দোনেৎস্কর ডোব্রোপিলিয়ার শহরের অসুস্থ, বয়স্ক এবং শিশুদের নিরাপদ স্থানে নিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকরা। শহরটি রাশিয়া থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার (পাঁচ মাইল) দূরে। শহরটিকে ইতোমধ্যেই পরিত্যক্ত মনে হচ্ছে। এ ছাড়া এক সপ্তাহ ধরে এখানে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। যে ভবনগুলো রয়েছে রাশিয়ার হামলায় সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এবং কিছু ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

গত পাঁচ দিন ধরে ৩১ বছর বয়সী জার্মান লার্জ ও ১৯ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় ভারিয়া, সেখানকার লোকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তারা দাতব্য সংস্থা ইউনিভার্সাল এইড ইউক্রেনের হয়ে কাজ করছেন। রুশ হামলায় আতঙ্কিত মানুষ যে যেভাবে পারছে শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন। এক সপ্তাহ আগে, রাশিয়ান সৈন্যদের ছোট ছোট দল শহরের চারপাশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইউক্রেনের ‘দুর্গ বেল্ট’ হিসেবে পরিচিত এলাকাটির যে কোনো সময় পতন হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলাস্কায় শান্তি আলোচনায় বসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলাস্কা বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কিয়েভকে পূর্বাঞ্চলের শিল্প এলাকা দনবাস ছেড়ে দিতে রাজি করানো। ২০২২ সালে শুরু করা মস্কোর এ সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্যও ছিল এটি। ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক প্রদেশ এই দুই বৃহৎ অঞ্চলকে একসঙ্গে বলা হয় দনবাস। খনিজ সম্পদের আধার কয়লা ও আয়রনসমৃদ্ধ এই অঞ্চলটিই হলো ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চলের প্রাণ।

শুধু ইউক্রেন নয়, দনবাস গোটা দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের মধ্যে একটি বড় খনি ও শিল্পাঞ্চল; যেখানে বিপুল পরিমাণে কয়লা সংরক্ষিত আছে। এই কয়লাখনির মূল অংশ ইউক্রেনে হলেও একটি ছোট অংশ রাশিয়ার ভূখণ্ডেও পড়েছে। এ নিয়েই পুতিনের দৃষ্টি পড়েছে দনবাসের দিকে।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেনের যুদ্ধ সমাধানের জন্য রাশিয়া ‘উল্লেখযোগ্য ছাড়’ দিয়েছে। সংঘাত শেষ হওয়ার পরিষ্কার কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও তিনি ‘অগ্রগতি হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন। রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস উইথ ক্রিস্টিন ওয়েলকার’ অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছু ছাড় দিয়েছেন। এরমধ্যে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আগ্রাসন থেকে ইউক্রেনকে সুরক্ষিত রাখতে দেওয়া নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রতিশ্রুতিও আছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন আর কখনোই আপসের নামে কোনো চাপের মুখে পড়বে না। রোববার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর দেশ নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেটি সম্মান করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার সময় এই বক্তব্য সামনে এলো। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দিতে রোববার কিয়েভে পৌঁছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও ২৯২ যুদ্ধবন্দি বিনিময় করল রাশিয়া-ইউক্রেন
আলজাজিরা জানায়, ১৪৬ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় বন্দিবিনিময় করা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ২৪ আগস্ট কিয়েভের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে ১৪৬ জন রুশ সেনাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিনিময়ে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ১৪৬ জন যুদ্ধবন্দিকে ইউক্রেনে স্থানান্তর করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়টি আরও জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত রাশিয়ানরা বেলারুশে মানসিক ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular