জালাল উদ্দিন মন্ডল নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহের নান্দাইলে আউলিয়া পাড়া দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শুধু নিচে পিলার নির্মাণেই আটকে আছে। অন্যদিকে মাদ্রাসার একটি জরাজীর্ণ টিনসেড ঘরে কোনক্রমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই ভবন নির্মাণের কাজ গতি পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ এলাকাবাসীসহ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষ বলছে বার বার তাগাদা দেওয়ার পরেও ওই ঠিকাদার নানা অজুহাত দেখিয়ে কাজে বিলম্ব করছেন।
উপজেলার আচারগাঁও ইউপি’তে অবস্থিত আউলিয়া পাড়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৫৬ সালে ৮০ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে মাদ্রাসাটি প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ণরত। শুরু থেকেই একটি টিনসেড ঘরে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চলে আসছে। শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে অনেক আবেদনের পর মাদ্রাসার জন্য একটি চারতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ময়মনসিংহের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ১ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৭ শত ৭৫ টাকা ব্যয়ে মাদ্রাসার একটি চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে। দরপত্রে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ভবন নির্মানের কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ‘দিশা বিল্ডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই ভবন নির্মাণের কাজ পায়। উদ্বোধনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বদিউজ্জামান আকন্দ নোমান ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু ভবনটির কাজ সম্পন্ন হওয়া দূরে থাক, দুই বছরে শুধু নিচে পিলার নির্মাণেই আটকে আছে পুরো ভবন নিমার্ণের কাজ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটি মূল ভিতের উপর আরসিসি পিলারগুলো শূন্যে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও কোথাও সামান্য তিন ফুট ওয়াল করা হয়েছে। পিলারের উপরে থাকা রডগুলোয় মরিচা(জং)ধরেছে। ভবনের ভিতরের মাটি উঁচু নিচু হয়ে আছে। অন্যদিকে মাঠের মাঝখানে রয়েছে একটি বড় ধরনের একটি গর্ত। তার পাশেই একটি ভাঙ্গা টিনশেড ঘরে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান,চুক্তি অনুযায়ি নির্ধারিত সময়ে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ পোহাতে হতো না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভবন নির্মাণ কাজ পাওয়া ‘দিশা বিল্ডার্স’ এর মালিক বদিউজ্জামান আকন্দ নোমান জানান,‘ভবনের বরাদ্ধের টাকা সহ মাদ্রাসার জমি সংক্রান্ত অনেক ঝামেলা থাকায় কাজটা একটু ধীরগতিতে চলছে। এছাড়াও অন্যান্য ঝামেলার কারনে কাজ বন্ধ ছিল,তবে কয়েকদিনের মধ্যেই আবার কাজ শুরু করব বলে আশা করছি।
আউলিয়া পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারেন্টেন্ড মাওলানা আপ্তাব উদ্দিন জানান,ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেছেন। তাগাদা দিয়েছেন ঠিকাদারকেও, তিনি এদিন সেদিন কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়ে যাচ্ছেন,কিন্তু কাজ আর শুরু করছেননা।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (নান্দাইল) অরুণ চন্দ্র দাস জানান,তিনি ওই ঠিকাদারকে কয়েকবার তাগিদ দিয়েছেন। কাজ শুরু করার জন্য চিঠি দিয়ে তাগাদা দিয়ে ঠিকাদারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে একসময় ফান্ডের সমস্যা ছিল,তবে সে সমস্যা অনেক আগেই কেটে গেছে।




