আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকশ যাত্রীকে বহন করা একটি ট্রেন লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ট্রেনটির চালক আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার ওই হামলার সময় চারশর মতো যাত্রীকে বহন করা জাফর এক্সপ্রেসে ৯টি বগি ছিল, ট্রেনটি বালুচিস্তানের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়র পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল বলে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
পরে এক বিবৃতিতে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এ হামলা দায় স্বীকার করে বলেছে, তাদের হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছে এবং ট্রেনটি থেকে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ শতাধিক মানুষকে জিম্মিও করেছে।
জিম্মিদের মুক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালালে পরিণতি ‘মারাত্মক’ হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
নিহতের খবর এবং কাউকে জিম্মি করা হয়েছে কিনা প্রাদেশিক সরকার বা রেলওয়ের কেউ তা নিশ্চিত করেনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বেলুচিস্তানের বোলান জেলার মুশকাফ এলাকার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, বলেছেন এক রেলওয়ে কর্মকর্তা।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে মোতায়েন করেছেন তারা।
“সশস্ত্র ব্যক্তিরা ট্রেনটি ৮ নং টানেলের কাছে থামিয়েছিল। ট্রেনের কর্মী ও যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে,” পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনকে বলেছেন রেলওয়ের কন্ট্রোলার মুহাম্মাদ কাশিফ।
বালুচিস্তানে দশকপুরনো যে বিদ্রোহ চলছে, তাতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে খনিজসম্পদে ভরপুর ওই অঞ্চলে নিয়মিতই সরকার, সেনাবাহিনী ও চীনা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালাতে দেখা গেছে।
ইসলামাবাদের সরকার বালুচিস্তানের গ্যাস ও খনিজ সম্পদে অন্যায্য শোষণ চালাচ্ছে দাবি করা বিএলএ-র আকাঙ্ক্ষা স্বাধীন বালুচিস্তান। দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে যারা লড়াই করছে তাদের মধ্যে বিএলএ-ই সবচেয়ে বড়।



