ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধপ্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান দখল করেআছে শিল্পমন্ত্রীর মেয়ে

প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান দখল করেআছে শিল্পমন্ত্রীর মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবন্ধীদের প্রতিষ্ঠান দখল করে কীর্তি গড়েছেন সাবেক স্বৈরাচারের শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের মেয়ে হেমা। এতে তাকে সহায়তা করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক ডিডি। যার নাম মাসুদুল হাসান তাপস। যিনি এখনো স্বপদে বহাল আছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটির তৃতীয় তলায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ হাসান। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিল ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

নরসিংদী জেলার মনোহরদি থানার গোতাসিয়া ইউনিয়নের চুলা গ্রামে ১১৩ শতাংশ জমি কেনেন ইউসুফ হাসান। এই সম্পত্তি কিনতে তিনি বিক্রি করেন নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি। যেহেতু তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তিনি দান সূত্রে কিছু সম্পত্তি পান।

এভাবে সবার সহযোগিতায় ২০০৯ সালে তিনি গড়ে তুলেন মনোহরদী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা। প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র তৈরি করে তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করেন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউসুফ হোসেন চেয়ারম্যান ও তার গঠিত কমিটি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

সবকিছু ঠিকঠাক মতো চললেও গোল বাধে ইউসুফ হোসেন যখন ওই প্রতিষ্ঠানের নামে স্বীকৃতি ও ভাতার আবেদন করেন। শিল্পমন্ত্রীর পরিবারের চোখ পড়ে তাতে। বিশেষ করে তার কন্যা হুমায়রা মাহমুদ হেমার। বাপের প্রভাব বিস্তার করে তিনি ছিনিয়ে নেন প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানটির দখল। হয়ে যান প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। গঠন করেন নিজের পছন্দের কমিটি।

সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণ করান ইউসুফ হোসেন ও তার পরিবারকে। তারপর অজ্ঞাত স্থানে আটক রেখে ইউসুফ হোসেন কে দিয়ে ১০০ টাকার ৭২টি সাদা স্টাম্প দলিলে সিগনেচার করিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬টি খালি চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় মন্ত্রীর মেয়ে হেমা কে সহায়তার করে ইকবাল হোসেন, তাজউদ্দিন ফরাজী ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী।

৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পতন হলে তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি শেষ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি ফিরে পাবার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন তারা। প্রতিবার বাধা দিতে থাকে সমাজসেবার অধিদপ্তরের মাহামুদুল হাসান তাপস ও তার সহযোগি মনির হোসেন। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া এসব দোসররা প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাতের সঙ্গেও জড়িত ছিল বলে তিনি জানান।

ইউসুফ হোসেন বলেন, আমাদের কমিটি ২০২৫ সাল পর্যন্ত বহাল আছে। মন্ত্রীর মেয়ের গড়া কমিটি অবৈধ, গঠনতন্ত্র বিরোধী এবং বেআইনী। এসব ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি চান এবং তাদের গড়া কমিটির পুনর্বহাল চান তারা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular