ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধপ্রাণ গোপালের মেয়ে চিকিৎসক অনিন্দিতাকে হেনস্তার চেষ্টা

প্রাণ গোপালের মেয়ে চিকিৎসক অনিন্দিতাকে হেনস্তার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ) রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অনিন্দিতা দত্তকে বোরবার দুপুরে একদল মানুষ হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনার এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। অনিন্দিতা দত্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের মেয়ে।

এ ঘটনার পেছনে বাবা প্রাণ গোপাল দত্তের নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার চান্দিনার একজন বাসিন্দার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনিন্দিতা দত্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনিন্দিতা দত্তকে নাজেহাল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল, অনেকটা মবের মতো।

অনিন্দিতা গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের চিকিৎসক, শিক্ষক ও কর্মচারী–কর্মকর্তাদের সহাযোগিতায় তিনি ‘মবের’ হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এসে তাঁকে উদ্ধার করেছে।

ঘটনার বিবরণে অনিন্দিতা দত্ত বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ব্লক থেকে বি ব্লকের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনজন ব্যক্তি তাঁর পথ আগলে ধরেন এবং তাঁদের সঙ্গে যেতে বলেন। তাঁরা হুমকি দেন, তাঁদের সঙ্গে না গেলে তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে। অনিন্দিতা তাঁদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পাশাপাশি মুঠোফোনে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর বিভাগের শিক্ষকদের সহায়তায় তিনি নিজ বিভাগে চলে যান। এ সময়ের মধ্যে সেখানে বহু মানুষ জড়ো হয়। অনিন্দিতা বলেন, ‘এটা ছিল মব’।

অনিন্দিতা দত্ত প্রায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নিজ বিভাগেই ছিলেন। এরপর সেনাবাহিনী এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।

এমন ঘটনা কেন ঘটল বা এর পেছনে কারা আছেন জানতে চাইলে অনিন্দিতা দত্ত বলেন, সজল কর নামের এক ব্যক্তি এবং একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের সেগুনবাগিচা ও শাহবাগ থানার নেতারা ঘটনার পেছনে আছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে সজল কর তাঁদের পরিবারকে নানাভাবে নাজেহাল করার পাশাপাশি অর্থ দাবি করে আসছেন।

সজল কর পেশায় একজন আয়কর আইনজীবী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিংয়ে গিয়েছিলেন। অনিন্দিতা তাঁকে যেতে বলেছিলেন। যাওয়ার সময় সেগুনবাগিচা এলাকার একজনকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। তবে ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সজল করের জানা নেই।

সজল করের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায়। ওই এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন প্রাণ গোপাল দত্ত।

সজল কর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি প্রাণ গোপাল দত্তের নামে পাঁচটি মামলা করেছেন। কোনোটিতে অনিন্দিতা দত্তের নামও আছে। সমঝোতার ব্যাপারে কথা বলার জন্য অনিন্দিতা দত্ত তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে বলেছিলেন। তবে মানুষ জড়ো করা বা মব তৈরির ব্যাপারে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

অনিন্দিতা দত্ত বলেন, সজল করকে তিনি কোনো দিন দেখেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথাও তাঁকে বলেননি।

এদিকে শাহবাগ থানা ছাত্রদল নেতা রুবেল আহমদ বলেন, মামলার বাদীর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এখন সেবাবাহিনী ও পুলিশ এসেছে। তারা বিষয়টি দেখবেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular