ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিবাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানি

বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানি

বাংলাদেশ শুল্কমুক্তভাবে পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিতে যাচ্ছে– এ খবরে হুড়মুড় করে চাল রপ্তানির তোড়জোড় শুরু করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম অন্তত ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এমন খবর প্রকাশ করেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির জন্য ২০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। সিদ্ধান্তটি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার পর রাত থেকেই ভারত থেকে ট্রাকভর্তি চাল পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এ বিষয়ে সমকালের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালের শুল্ক শূন্য করার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা, উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে থেকেই খবর পেয়েছিলেন, বাংলাদেশ শুল্ক প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। তাই তারা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত রেখেছিলেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর হতেই বাজারে ধাক্কা লাগে। খুচরা বাজারে স্বর্ণা জাতের চালের দাম কেজিতে ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেট ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রত্না ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি ৫২ থেকে ৫৬ রুপিতে পৌঁছেছে।
প্রসঙ্গত দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। গত ১০ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখা ২৪২টি চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। এর মধ্যে সেদ্ধ চাল চার লাখ ৬১ হাজার টন এবং আতপ চাল ৩৯ হাজার টন। অনুমতি পাওয়া আমদানিকারকদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাল আমদানি করতে হবে।

চালের বাজার স্থির রাখতে গত বছরের ২০ নভেম্বরে চালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পাঁচ শতাংশ প্রত্যাহার করে সরকার।
চালকল মালিকদের সংগঠনের বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি শহিদুর রহমান পাটোয়ারী সমকালকে জানান, চাল আমদানির শুল্কহার পরিবর্তন নিয়ে সরকার থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমি নিজেও চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছি। তবে শুল্কহার কত হবে, তা জানার পরই বুঝতে পারব আমদানি করে লাভ না ক্ষতি হবে। এ জন্য অপেক্ষা করছি। শুনেছিলাম গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসআরও জারি করবে, শেষ পর্যন্ত করেনি। আমদানির অনুমতি পাওয়া সব ব্যবসায়ী এই এসআরও জারির অপেক্ষায় আছেন।’

ভারতের ব্যবসায়ীরা এতটা আগ্রহী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আবার শুল্কে বড় ছাড় পেলে বেশি লাভবান হওয়ার আশায় বাংলাদেশি কোনো কোনো ব্যবসায়ী একটু ঝুঁকি নিয়ে আগাম আমদানির আদেশ দিচ্ছেন। এরই মধ্যে কিছু চাল স্থলবন্দরে এসে পৌঁছেছে– এ কথা ঠিক। তবে এর পরিমাণ পাঁচ হাজার টন বা মোট আমদানির অনুমতির এক শতাংশও হবে না। তবে চাল এলেও শুল্কহার চূড়ান্ত না হওয়ায় কেউ খালাস করছেন না।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, সে দেশের চাল রপ্তানিকারকরা পেট্রাপোল বন্দরের কাছে চাল মজুত করছেন। যেমন– রাইসভিলার প্রধান নির্বাহী সুরজ আগরওয়াল বলেন, লজিস্টিকস ও খরচের দিক থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়েই রপ্তানি সবচেয়ে লাভজনক। ইতোমধ্যে উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিল মালিকরা এ পথে চাল পাঠাচ্ছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular