ঢাকা  বুধবার, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকবিজেপির হামলা-ভাঙচুরের নিন্দা বাম জোটের

বিজেপির হামলা-ভাঙচুরের নিন্দা বাম জোটের

নিউজ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বিরোধী রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর বিজেপি নেতা-কর্মীদের পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও সাম্প্রদায়িক উসকানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের নামে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত ‘গণতন্ত্রের হত্যাকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছে এবং এর নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সাম্প্রদায়িক মেরূকরণের রাজনীতি।

বুধবার (৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা এসব অভিযোগ করেন। এতে বাসদ, সিপিবি, বাংলাদেশ জাসদসহ ১২টি প্রগতিশীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিরা স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এসআইআর’- এর নামে প্রায় ২৭ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের বড় অংশই সংখ্যালঘু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ উদ্ধৃত করে জোটটি জানায়, শতাধিক আসন ‘চুরি’ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি ভেঙে সেখানে সাম্প্রদায়িক প্রতীক স্থাপনের চেষ্টা এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মূর্তিতে কালি লেপনের ঘটনাকে প্রগতিশীল ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে ফ্রন্ট। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় গরুর মাংস বিক্রেতাদের দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রচর্চা’র প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ‘বাংলাদেশবিরোধী কুরুচিপূর্ণ ও উসকানিমূলক’ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। নেতারা বলেন, ‘প্রতিবেশী স্বাধীন রাষ্ট্র সম্পর্কে এ ধরনের দম্ভ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। বাংলাদেশ কোনো শক্তির করুণা বা তত্ত্বাবধানে চলে না; এটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সার্বভৌম দেশ।’

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে শান্তি ফেরাতে ৫টি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো বিরোধী দল ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধ করা; লেনিনের মূর্তি ভাঙচুরকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার; মাংস বিক্রেতাদের দোকান ভাঙচুরসহ সব সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার; ভোটার তালিকায় কারচুপি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের নিরপেক্ষ তদন্ত; বাংলাদেশবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular