নিউজ ডেস্ক: ড. কামাল হোসেনের সুযোগ্য কন্যা ব্যারিস্টার সারা হোসেন একজন আইনজীবী, সমাজে পিছিয়ে পড়া, নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষার এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের আইন ও মানবাধিকার অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। তাঁর নীতি, সাহসিকতা এবং নিপীড়িত নারীদের অধিকার আদায়ে আইনি লড়াই তাকে বিশ্বজুড়ে অনন্য মর্যাদায় সমাসীন করেছে।
নিপীড়িতের কণ্ঠস্বর:
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক মানুষ এবং বিশেষ করে নারীদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
সাহসী নেতৃত্ব:
নারীর প্রতি সহিংসতা ও ফতোয়ার নামে মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে আদালতে তাঁর গর্জে ওঠা এবং আইনি সংস্কারের বলিষ্ঠ লড়াই প্রশংসার দাবিদার।
প্রথা ভাঙ্গার কারিগর:
পারিবারিক সূত্রেই তিনি ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের দীক্ষা লাভ করেন। তাঁর স্বামী ডেভিড বার্গম্যান একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
মেধাবী আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন যুক্তরাজ্য থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে অনারেবল সোসাইটি অব মিডল টেম্পল থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ (কলড টু দ্য বার) সনদ অর্জন করেন।
পেশাদার জীবন ও কর্মক্ষেত্র:
আইনজীবী হিসেবে পথচলা শুরু হয় ব্যারিস্টার সারা হোসেনের। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২১ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
চেম্বার পরিচালনায়:
বর্তমানে তিনি বিখ্যাত ল ফার্ম ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস-এর পার্টনার এবং ডেপুটি হেড অব চেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সফলতা:
তিনি বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর সম্মানসূচক নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বিনা পারিশ্রমিকে (Pro bono) কাজ করছেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র:
দেশের প্রথম সারির এই মানবাধিকার সংস্থার তিনি একজন সক্রিয় নির্বাহী সদস্য।
যুগান্তকারী আইনি অবদান:
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বেশ কিছু যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক মামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – ফতোয়া বিরোধী রায়। ফতোয়ার নামে গ্রামীণ নারীদের প্রতি অমানবিক নির্যাতন রুখতে আদালতে সফল লড়াই করেছিলেন।
টু-ফিঙ্গার টেস্ট নিষিদ্ধকরণ:
যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য অবমাননাকর ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ প্রথাকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
আইন প্রণয়ন: ২০১০ সালে বাংলাদেশে প্রণীত ‘পারিবারিক সহিংসতা বা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন’ এর খসড়া তৈরিতে তাঁর অসামান্য অবদান ছিল।
হেফাজত ও নির্যাতন বিরোধী মামলা:
পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু প্রতিরোধ আইনের অধীনে প্রথম রায় বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও স্বীকৃতি:
জাতিসংঘের বিশেষ মিশনে ব্যারিস্টার সারা হোসেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক ২০১৮ সালে গাজা সহিংসতা এবং পরবর্তীতে ইরানের বিক্ষোভে নারী অধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান বা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ:
২০১৬ সালে নারী অধিকার, শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে মর্যাদাপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড (International Women of Courage Award) লাভ করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাঁকে ‘ইয়ং গ্লোবাল লিডার’ হিসেবে ভূষিত করে।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন কেবল আইনের গণ্ডিতে আবদ্ধ এক নাম নন; অন্ধ সংস্কারের শৃঙ্খলে বন্দি সমাজ, যেখানে অন্যায়ের অন্ধকারে গুমরে কাঁদে নিপীড়িত নারী—সেখানে তিনি এক দীপ্ত মশাল। কালো কোট আর আইনি যুক্তির আড়ালে তিনি ধারণ করেন এক মমতাময়ী ও সাহসী হৃদয়, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রের মতো কঠিন আর ন্যায়ের পক্ষে কুসুমের মতো কোমল।