মাজার ও প্রতিমা ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৯টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট’।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে বক্তারা মাজার-মন্দিরে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় না আনায় অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ক্রিয় অবস্থানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানান।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সাদমান অলীভের সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি ফাইজা মেহজাবিন প্রিয়ন্তী বলেন, ‘গত এক বছর ধরে লাগাতার মাজারে হামলা চলছে। বাউলদের ওপর হামলা চলছে। প্রতিমা ভাঙা হচ্ছে। এই যে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদী আগ্রাসন, এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী মনন, অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আজ। আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। কিছুদিন আগে গাজীপুরে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। তখন পুলিশ সুপার জানান, প্রতিমা নাকি বাতাসে ভেঙে গেছে। এ দেশে প্রতিমা ভাঙে বাতাসে, মাজার ভাঙে অজ্ঞাতনামা।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত এক বছরে মাজারে কারা হামলা করেছে, আমরা জানি। প্রশাসনও জানে। কিন্তু প্রশাসন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মামলা করছে অজ্ঞাতনামা মানুষের বিরুদ্ধে। আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, মাজার-মন্দির ভাঙা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান নিষ্ক্রিয়। এই যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, এর প্রতি আমরা নিন্দা জানাই।’
জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জোহান আরাজ খান বলেন, ‘গত বছর একজন ফ্যাসিস্টকে সরিয়েছি। ফ্যাসিজমের পদ্ধতি সরাতে পারিনি। দেশের প্রতিটি মাজারের ওপর যে আক্রমণ, মন্দিরের ওপর যে আক্রমণ, পূজামণ্ডপে মূর্তি ভাঙা– এই প্রতিটি বিষয় ফ্যাসিজমের সঙ্গে জড়িত। যতদিন রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে, পদক্ষেপগুলো নেবে না; আমাদের মেনে নিতে হবে, ফ্যাসিজমের পদ্ধতিটা সরাতে পারিনি।’
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আদিত্য ভৌমিক বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। উল্টো তারা মবকে আশকারা দিচ্ছে। যারা রাষ্ট্রক্ষমতা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন, যদি আমাদের জানমাল, মতাদর্শ, সংস্কৃতি চর্চার নিরাপত্তা দিতে না পারেন, মানুষ আপনাদের থেকে মুখ সরিয়ে নেবে।’



